অপ্রিয় সত্য

অপ্রিয় সত্য


১০ টি প্রধান কারণে জামায়াত ইসলাম বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেমানান:
১) জামায়াত একমাত্র বড় দল যার নেতার ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী পরবর্তীতে গদিনসীন হয়নি, যা গণতন্ত্রের চেতনার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
২) জামায়াত নেতারা মন্ত্রিত্ব পেয়েও ঘুষ দুর্নীতি করতে পারেনি। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকেও ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি করতে না পারায় তা সাধারণ জনগণকে হতাশ করেছে।
৩) জামায়াতের প্রত্যেকটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সততা ও দক্ষতার কারণে লাভজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দলীয় কোন প্রতিষ্ঠানের এহেন মুনাফা দলীয় দুর্নীতির চেতনার সাথে খাপ খায়না।
৪) বিগত দুই বছরে প্রথম সারির সব নেতারা জেলে থাকার পরেও আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চিন্তার বিষয়।
৫) সরকারী দালাল টিভি চ্যানেল গুলোতে জামায়াত শিবিরের তাণ্ডবের কথা প্রচার করা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত লাঠি আর ঢিল ছাড়া কোন অস্ত্র দেখতে না পাওয়া তাণ্ডবের অর্থকে মলিন করেছে।
৬) জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ইভটিজিং ইত্যাদির সাথে জড়িত নেই এবং সবাইকে নামাজ এবং কুরআন পড়ার তাগিদ দেয়। ব্রেন ওয়াশ না হলে এরকম আচরণ এই বয়সে সম্ভব নয় বলে জাফর স্যার মনে করেন।
৭) জামায়াত একমাত্র দল যার কর্মীরা তাঁদের মাসিক ইনকামের ১-৫ শতাংশ সংগঠনকে দান করেন। রাজনীতি করার মূল উদ্দেশ্য হল পকেট ভরা। টাকা খরচ করে রাজনীতি করার এই কালচার রাজনৈতিক চিরাচরিত উদ্দেশ্যকে ভীষণ ভাবে কলঙ্কিত করেছে।
8) অন্য দল থেকে কেউ জামায়াতে যোগ দিতে হলে ফুলের মালা দিয়ে ইলেকশনের নমিনেশন পায়না বরং সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক ভাবে কর্মী থেকে নেতা পর্যায়ে উন্নীত হতে হয়।
৯) আজ পর্যন্ত শুনি নাই জামায়াত শিবিরের দুই দলের মাঝে মারামারি হয়েছে। নমিনেশন নিয়ে মারামারি তো হয়না বরঞ্চ কেউ নেতা নির্বাচিত হলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
১০) জামায়াত এবং শিবির আদর্শিক রাজনীতির কথা বলে। বাংলাদেশের মানুষ মনে করেন ইসলাম শুধু মসজিদে থাকবে রাজপথে চলবে মানুষের হুকুম। বাংলাদেশের জন্য রাজনীতি এবং আদর্শ বিপরীতার্থক শব্দ। তাইতো জামায়াতের আদর্শিক রাজনীতি বাংলাদেশে বড্ড বেমানান।

অপ্রিয় সত্য


অপ্রিয় সত্য


১. আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ফেলে ইন্দিরার কাছ থেকে বছরে ৪০০০০ কিউসেক পানি আদায় করে নিয়েছিলেন সোজা মেরুদণ্ডের এই যোদ্ধা।

২. বাংলাদেশ মহিলা পুলিশ জিয়াউর রহমানই প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৭৬ সালের ৮ ই মার্চ।

৩. মাদ্রাসার সিলেবাসে সায়েন্স, ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

৪. মধ্যপ্রাচ্যে শ্রম বাজারের ENTRY CHANNEL টিও খুঁড়ে দিয়ে গেছেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৬ এ প্রথম জিয়াউর রহমান ৬০০০ শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাঠান। সেই ৬০০০ হাজার আজ ৭০০০০০০০ !

৫. আজ মুক্তাঙ্গনে রাজনৈতিক সমাবেশ হয়, সেই মুক্তাঙ্গনও জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবার জন্য।

৬. বিটিভির কালার ট্রান্সমিশন জিয়াউর রহমান চালু করেন যখন ভারতেও রঙিন সম্প্রচার শুরু হয়নি।
৭. বিখ্যাত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান " যদি কিছু মনে না করেন " নির্মাতা ফজলে লোহানী কে লন্ডন থেকে দেশের মাটিতে নিয়ে আসেন জিয়াউর রহমান।

৮. বিটিভির ২য় চ্যানেল চালু করেছিলেন জিয়া যা এরশাদ বন্ধ করে দিয়েছিলো।

৯. জিয়াউর রহমানের সরাসরি নির্দেশে নতুন কুড়ি , স্কুল বিতর্ক অনুষ্ঠান গুলো চালু হয় বিটিভিতে।

১০. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশে শাহবাগের জাতীয় শিশুপার্কটি জিয়াউর রহমান করে গেছেন।

১১. জাতীয় শিশু পুরস্কার , জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কার , স্বাধীনতা পুরস্কার , একুশে পদক এগুলো জিয়াউর রহমান চালু করেছেন।

১২. ১৯৭৯ 'র আগ পর্যন্ত একুশের বই মেলা ছিল গাছতলার ছন্নছাড়া মেলা। জিয়াউর রহমানই বইমেলাকে বাংলা একাডেমীর দায়িত্বে নিয়ে আসেন ১৯৭৯ তে। সে বছর থেকেই একুশের বই মেলা রাষ্ট্রীয় ভাবে পালিত হচ্ছে।

১৩. এফডিসির জন্যও জিয়াউর রহমান গাজীপুরে জমি বরাদ্দ করে গেছেন।

১৪. রাষ্ট্রীয় অনুদানে সুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাণ করার বিষয়টা জিয়াউর রহমানই চালু করেছেন।

১৫. বাকশালে চাকরী চ্যুত সাংবাদিকদের চাকরীর ব্যবস্থা করার জন্য রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন "দৈনিক বার্তা" যেখানে চাকরী করেছেন কামাল লোহানীও।

১৬. জাতীয় সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ১ম বারের মত নারী আসন বাড়ানো।

১৭. ২৭৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ করে গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধিকরণ।

১৮. কলকারখানায় ৩ শিফট চালু করে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি।

১৯. যুব উন্নয়ন মন্ত্রাণালয় ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুব ও নারী সমাজকে সম্পৃক্তকরণ।

২০. ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে সকল মানুষের স্ব স্ব ধর্ম পালনের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণ।

২১. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন।

২২. তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামের জনগণকে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করণ এবং সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।

২৩. জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আসনলাভ সর্বশেষ এভাবেই ৭১'র মেজর জিয়া, ৭৬'র জেনারেল জিয়া, ৭৮'র প্রেসিডেন্ট জিয়া কোমায় যাওয়া মাতৃভূমিকে সুস্থ সবল করেছেন ।

১৯৮১ 'র ৩০ মে এই ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়কের মৃত্যুতে বিশ্বের ইতিহাসে বৃহত্তম শবযাত্রা হয়েছিলো ...... শুধু ঢাকার রাস্তায় ঢল নেমেছিল ৩০ লাখ মানুষের।

অপ্রিয় সত্য


অপ্রিয় সত্য

শ্রীনাথ রাঘবন



১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় এক গবেষক। তিনি বলেছেন, তারা যে দেশের স্বাধীনতা চান, সেটা মার্চ মাস পর্যন্ত কোথাও বলেননি। ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাথে এক সাক্ষাৎকারে গবেষক শ্রীনাথ রাঘবন একথা বলেছেন। বাংলাদেশের জন্ম নিয়ে তিনি একটি বইও লিখেছেন।

শ্রীনাথ রাঘবন লন্ডনের কিংস কলেজের রিসার্স ফেলো এবং সেন্টার ফর পলিসি রিসার্সের সিনিয়র ফেলো। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলেছে, সহিংসতার মধ্যেই নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে। এই সহিংসতার কিছু কারণ প্রথিত আছে অতীতের মাঝে। এরই সূত্র ধরে শ্রীনাথ রাঘবনের বই ’1971 : A Global History of the Creation of Bangladesh’ (১৯৭১ : বাংলাদেশ সৃষ্টির বৈশ্বিক ইতিহাস) নিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাংবাদিক আশিস ইয়েচুরি।
পরিবর্তন-এর পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি হুবহু অনুবাদ করা হলো-
আপনার বই ১৯৭১ : বাংলাদেশ সৃষ্টির বৈশ্বিক ইতিহাস’ –কেন বৈশ্বিক?
শ্রীনাথ রাঘবন : সাধারণভাবে বাংলাদেশ সৃষ্টির বিষয়টিকে দেখা হয় উপমহাদেশীয় ব্যাপার হিসেবে। প্রচলিতভাবে এটাকে দেখা হয় দ্বিতীয় দেশভাগ হিসেবে। এটা আমার কাছে খুব সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি মনে হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক। এখানে সেইসব পরিপ্রেক্ষিতকে বিবেচনায় নেয় না, যে পরিপ্রেক্ষিতের ফলে এটা সম্ভব হয়েছিল এবং নির্ধারিত হয়েছিল চূড়ান্ত ফলাফল। এটা ছিল বৈশ্বিক ঘটনা পক্ষগুলো ভেবেছিল তাদের বৈশ্বিক সমর্থন আদায় করতে হবে। এক অর্থে মাঠের যুদ্ধের সাথে বৈশ্বিক মতামতের যুদ্ধের মিলন ঘটেছিল। এসব ঘটনা (একাত্তরের) অনুধাবনের ক্ষেত্রে এটাই কেন্দ্রীয় বিষয়।
আপনি মনে করেন বাংলাদেশ সৃষ্টি অনিবার্য ছিল না, বরং আপনি এমন কিছু বিষয়ের কথা বলেছেন যা ১৯৭১ তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখে। এটা কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
শ্রীনাথ রাঘবন : বাংলাদেশ সম্পর্কে নির্ধারণমূলক যে পাঠ প্রথমেই আমাদের সামনে আসে তা হল, ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের নাজুক অবস্থা। ভৌগলিক ব্যাপার নিয়েও যুক্তি আছে- একই দেশের দুই অংশ ভারত দ্বারা ভাগ হয়ে রয়েছে। সেই সাথে আছে অর্থনৈতিক বৈষম্য, বাঙালি ও পশ্চিম পাকিস্তানিদের সাংস্কৃতিক ভিন্নতা এবং দুই অংশের ক্ষমতা বিভাজনে একপেশে অবস্থার যুক্তিও। কিন্তু আমার যুক্তি হল, স্বায়ত্তশাসনের দাবি কীভাবে স্বাধীনতার দাবিতে পরিণত হল সেটা বোঝার জন্য আসলে এইসব প্রেক্ষাপটের দিকে নজর দেওয়ার দরকার নেই। আমাদের দরকার একটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপট।
আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কি এমন যে, পাকিস্তান যদি অতো কঠোরভাবে জবাব না দিত, তাহলে স্বাধীন বাংলাদেশ হতো না?
শ্রীনাথ রাঘবন : সেক্ষেত্রে একটা শিথিল কনফেডারেশন হতো যা ১৯৭১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন। মার্চ পর্যন্ত আওয়ামী বলত না যে, তারা সরাসরি স্বাধীনতা চায়। তারা পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের অধিকার সংবলিত একটি শিথিল কনফেডারেশন চেয়ে আসছিলেন। ওই সময় আশা করা হচ্ছিল, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শিথিল কনফেডারেশন করা হবে এবং বাঙালিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তারা অধিকতর ক্ষমতা পাবে; ন্যায্য ভাগ পাবে।
কেন এটাকে ১৯৬৮ সালের চেতনার সাথে সম্পর্কিত করছেন?
শ্রীনাথ রাঘবন : আমার কাছে মনে হয়, ১৯৬৮ সালের ছাত্র আন্দোলন ছিল পাকিস্তানের ইতিহাসের বাঁক ঘুরিয়ে দেওয়ার ঘটনা। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সম্পদ দখল করা সত্ত্বেও পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে ভালো করছিল এবং আইয়ুব খান ১০ বছর ক্ষমতা থাকতে পেরেছিলেন। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ছাত্র আন্দোলন পরিবর্তনের সূচনা করে। ছাত্র আন্দোলন তখন ছিল একটা বৈশ্বিক ঘটনা এবং আমি সিআইএর একটি নথির উদ্ধৃতি দিয়েছি, যেখানে তারা বলেছিল এটা বৈশ্বিক আন্দোলন। পাকিস্তানে এই ছাত্ররা ছিল ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের। শেখ মুজিবুর রহমান নিজেও ১৯৪০-এর দশকের একজন ছাত্রনেতা ছিলেন; ভিন্ন আশা নিয়ে তিনি পাকিস্তানের জন্য আন্দোলন করেছিলেন। এই ছাত্র আন্দোলনের প্রগতিবাদিতা আওয়ামী লীগকে বাধ্য করেছিল দরকষাকষিতে তাদের অবস্থান কম নমনীয় রাখতে।
এই সময় এর মধ্যে ইসরায়েল জড়িয়ে পড়ছে বলে আপনি মন্তব্য করেছেন একটু বিস্তারিত বলবেন?
শ্রীনাথ রাঘবন : ভারতকে অস্ত্র সরবরাহের ইতিহাস ইসরায়েলের আছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে তারা কিছু অস্ত্র পাঠিয়েছিল। সুতরাং ইসরায়েলের সাথে ভারতের একটি গোপন সম্পর্ক ছিল। ১৯৭১ সালে অস্ত্র দেওয়ার ব্যাপারে আমেরিকানরা জানে এমন কোনো প্রমাণ নেই। যেহেতু ওই সময় তারা নিজেদের মারাত্মক বিচ্ছিন্ন বোধ করছিল, সেহেতু ভারতের কাছে সম্পূর্ণ কূটনৈতিক স্বীকৃতি পাওয়া ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা মনে করত, এটা তাদের জন্য সহায়ক হবে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

অপ্রিয় সত্য


অপ্রিয় সত্য
হায়দার ফারুক মওদুদী


আল্লামা মওদুদী সাহেবের পুত্রের বক্তব্য নিয়ে যারা ধূম্রজাল সৃষ্টির পায়তারা করছেন তাদের বলিঃ আচ্ছা নূহ (আঃএর এক পুত্র কি কুফরি করেনিসে কি নূহ (আঃএর কিসতিতে উঠতে অস্বীকৃতি জানায় নিএতে কি নূহ (আঃএর কাফেলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছেএতে কি নূহ (আঃএর মর্যাদা কমে গেছে

রাসূল (সঃ) চাচা ইসলাম কবুল করেন নি। ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল বান্নার ছোটভাই জামাল আল বান্না সেক্যুলারপন্থী ছিলেন। এতে কি আদর্শের আন্দোলন থেমে ছিল?? তাহলে মওদুদী সাহেবের পুত্র তার পিতার আদর্শকে প্রত্যাখ্যান করলে সে কাফেলায় উঠতে অস্বীকৃতি জানালে ''এত কেনকেন?" করতে হবে কেনএই হায়দার ফারুক মওদুদীর কাহিনী বাঙালীদের কাছে নতুন হতে পারেপাকিস্তানের সবাই তার কীর্তিকলাপ জানে। উস্তাদ মওদুদী তাঁর লাইব্ররী এবং 'তাফহীমুল কুরআনএর গ্রন্থস্বত্ত্ব জামায়াতে ইসলামীকে দান করে গিয়েছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর পর হায়দার সাহেব সেগুলো দাবী করে বসলেন এবং মামলায় হারলেন। এরপর থেকেই শুরু হলো জামায়াত বিদ্বেষ। হায়দার ফারুক মওদুদীর তার পিতার এবং জামায়াত বিদ্বেষের কারন শুনুন মওদুদীর আরেক পুত্র খালিদ মওদুদীর মুখেঃ
http://www.forum.jamaat.org/forum/jamaat-e-islami-pakistan/ji-questions-answers/144-reality-of-haidar-farooq-maududi-allegations-on-jamaat-e-islami
হায়দার ফারুক মওদুদী সাহেব যদি এদেশে ইসলাম বিষয়ক কোন বক্তব্য দিতে আসতেন তাহলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু তিনি দালালী করতে এসেছেন সেক্যুলারিজম পক্ষে। নাস্তিক মুরতাদ এবং ইসলামের জঘন্য দুশমন শাহরিয়ার কবিরের সাথেই তার যত পিরিতি!!

'আমাদের সময়পত্রিকার রিপোর্টের শেষ দিক লক্ষ্য করুনঃ

"পাকিস্তানি ইসলামিক স্কলার হায়দার ফারুক মওদুদি আজ বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন বলে আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির।বাহ কি চমৎকার। ইসলামী স্কলার (?) দালালী করেন সেক্যুলারিজমের। শাহরিয়ার কবিরের কথা থেকে এটা বুঝতে আর বাকী থাকে না যে কারা মওদুদী সাহেবের নষ্টপুত্রকে এদেশে এনে নাটক সাজাচ্ছেন!!! পাকিস্তান জামায়াতের সাথে বাংলাদেশ জামাআতের সম্পর্ক নিয়ে মওদুদী সাহেবের এই পুত্র আতঙ্কজনক সংবাদ দিয়েছেনঃ 
"তারা হচ্ছে ডান হাত আর বাম হাততাদের মস্তিষ্ক একই।"

হাস্যকর একটি কথা।
আমিতো বলি সারা পৃথিবীতে যত ইসলামী আন্দোলন আছে সকলের মস্তিষ্ক একটাই। তুরস্কের সাদাত পার্টিমিশরে ইখওয়ানতিউনিশিয়ার আন নাহদাবাংলাদেশ ভারত পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামীর ধমনীতে একই রক্ত প্রবাহিত। বাঙালী বীরের জাতিএইটুকু শুনে তাদের হার্ট এটাকের কোন কারন নেই!!!

জিহাদ কি?

Posted by Unknown on 10:06 with

অপ্রিয় সত্য


অপ্রিয় সত্য
অপ্রিয় সত্য

সাম্প্রতিক সময়ে ‘জিহাদ’ শব্দটি পত্রিকাগুলোতে প্রায়ই ব্যবহার করতে দেখা যায় ‘জিহাদি বই’ স্টাইলে। জিহাদ কি এবং কেন আর জিহাদ বলতে আসলেই কি বুঝায় তা অধিকাংশ মুসলমান জানেন না। যারা জানেন তাদের অধিকাংশই আংশিক জানেনপ্রকৃত অর্থ জানেন না। এই ‘জিহাদ’ শব্দটি নিয়ে কম পানি ঘোলা করা হয়নি আর বর্তমান প্রজন্মের নিকট ‘জিহাদ’ শব্দটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন তারা শুধু মনে করে অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করাটাই হচ্ছে ‘জিহাদ’! অর্থাৎ বর্তমান প্রজন্ম ‘জিহাদ’ শব্দটির ক্ষেত্রে একপ্রকার ঘৃণা হৃদয়ে ধারণ করে বড় হচ্ছে। আর তাদের হৃদয়ে এই ধারণা বদ্ধমূল হওয়ার পিছনে রসদ যোগাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমইসলাম বিদ্বেষীদের লেখা যেখানে কোরআনের আয়াত এবং হাদিস সমূহকে বিকৃত অর্থ করে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। মুসলিম মাত্রই এই বিষয়ে স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার ধারণা থাকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ইনশাল্লাহনিম্নোক্ত লেখাটির মাধ্যমে অনেকেরই জিহাদ বিষয়ক ভুল ধারণাটি ভেঙ্গে যাবে।

জিহাদ কি?
-------------------

জিহাদ আরবি শব্দ। এর অর্থ হল কঠোর পরিশ্রম করা, চেষ্টা করা, সাধনা করা, সংগ্রাম করা। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহর দ্বীনকে (ইসলামকে) বিজয়ী করার লক্ষে এবং একমাত্র আল্লাহকে খুশি করার জন্য কুফরী তথা ইসলাম বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে মুমিনের সকল প্রচেষ্টা (দৈহিক, মানসিক, আর্থিক, জ্ঞানবুদ্ধি) নিয়োজিত করাকে জিহাদ বলে। অন্য অর্থে স্বীয় নফসের বিরুদ্ধে, শয়তানের বিরুদ্ধে, ফাসেকদের বিরুদ্ধে এবং মুশরিক-মুনাফিক-কাফেরদের বিরুদ্ধে জান-মাল ও জবান দিয়ে লড়াই করাকে জিহাদ বলা হয়।

জিহাদের প্রকারভেদ
-----------------------

জিহাদ চার প্রকার: 
১। জিহাদের নফস: প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ।

জিহাদে নফসের আবার চারটি স্তর রয়েছে:
প্রথম স্তর: সত্য কোথায় এবং সঠিক পথ কি তা খুঁজে বের কারা জন্য হৃদয়-মনকে অনুপ্রাণিত করাঅর্থাৎ হকের পরিচয় এবং হিদায়াত লাভের জন্য জ্ঞানের অনুশীলন এবং সাধনার আশ্রয় গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। এ পথ কঠিনএ পথ বন্ধুর। মন সহজে এ দিকে আকৃষ্ট হয় নামনকে এ কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করাই হচ্ছে জিহাদে নফসের প্রথম স্তর। এ স্তর অতিক্রম করতে না পারলে দ্বীনের সৌভাগ্য অর্জনেই মানুষ বঞ্চিত হয় নাপার্থিব সৌভাগ্য লাভও তার পক্ষে সম্ভব হয় না।

দ্বিতীয় স্তর: সঠিক পথের পরিচয় লাভের পর সে পথে চলার জন্য মনকে বাধ্য করা অর্থাৎ ‘ইলমের পর ‘আমলের জন্য মনকে বাধ্য করা। এ পথও অনেকের পক্ষে কঠিন। এজন্য প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়। এ সংগ্রামই হচ্ছে জিহাদে নফসের দ্বিতীয় স্তর।

তৃতীয় স্তর: নিজে সঠিক পথ চিনে সেই পথে চলার সঙ্গে সঙ্গে অপরকেও সে পথ চেনাতে হবে এবং সে পথে চলার আহবান জানাতের হবে। এটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। যে সত্য সাধক এ কাজ সম্পাদনে অবহেলা প্রদর্শন করবে এবং এ কর্তব্য পালনে উদাসীনতা দেখাবে সে সেসব কমবখত- দুর্ভাগাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা সত্যকে গোপন করে থাকে। এর নাম তালিম ও দাওয়াত- সত্য শিক্ষাদান এবং সত্যপথে আহবান। এ কাজও কঠিনএ কাজে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়অনেক পরিশ্রম করতে হয়। এ ত্যাগ স্বীকার এবং পরিশ্রমের জন্য মনকে প্রস্তুত করা জিহাদে নফসের তৃতীয় স্তর।

চতুর্থ এবং শেষ স্তর: মানুষকে সত্যপথে আহবান জানাতে এবং তাদের সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখতে গিয়ে অনেক বিপদাপদের সম্মুখীন হতে হয়অনেক দুঃখ-কষ্ট ও মুসিবতে পরতে হতে হয়বহু পরীক্ষায় নিপতিত হতে হয়। সে অবস্থায় বিপদ ও ও মুসিবতে ধৈর্য ধারণ করতে হয়পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। শুধু তাই নয়দুঃখ-কষ্টে ধৈর্যের তাওফিক লাভ এবং হৃদয়ের দৃঢ়তা আর সংকল্পের অটলতার জন্য আল্লাহর শুকরিয়াও জানাতে হয়। হৃদয়-মন-দেহকে এরূপ দৃঢ় করে গড়ে তোলার এবং বর্ণিত অবস্থাতেও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য মানস প্রবণতা সৃষ্টি জিহাদে নফসের চতুর্থ এবং শেষ স্তর। যে ব্যক্তি জিহাদে নফসের এ চারটি স্তরই সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করতে সক্ষমসেই প্রকৃত ভাগ্যবানকারণ তখন সে আল্লাহর প্রতি নিবেদিত-প্রাণ সত্যিকারের অনুসারী।

২। জিহাদে শয়তান: শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ।

জিহাদে শয়তান
শয়তানের সাথে জিহাদের দুইটি পর্যায়। শয়তান মানুষের ঈমানের উপর সন্দেহ এবং দ্বিধা-দ্বন্দ্বের বীজ বুনে দেয়। এ ব্যাপারে তাকে মোটেই আমল না দেয়াই হচ্ছে জিহাদে শয়তানের প্রথম পর্যায়। আর দ্বিতীয় পর্যায় হচ্ছে শয়তানের তরফ থেকে যেসব অনভিপ্রেত ইচ্ছা এবং গর্হিত বাসনা মনের ভিতর নিক্ষেপ করা হয় এবং যার প্রতি হৃদয়ের কোণে অনুরাগ সৃষ্টি হয় তা প্রতিহত ও দূরীভূত করার জন্য যুদ্ধ-জিহাদ-সাধনা ও সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। প্রথম পর্যায়ের জিহাদে সাফল্য লাভে হৃদয়ে সৃষ্টি হয় ইয়াকীন বা প্রত্যয়। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের সাফল্যে মনে দৃঢ়মূল হয় সবর তথা অটল ধৈর্য।

এ প্রত্যয়-দৃঢ় ধৈর্যশীল ব্যক্তিগণই সমাজ ও জাতির নেতৃত্ব করার অধিকার লাভ তথা মানব সমাজতে হিদায়েতের পথে পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করে থাকে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:

আমি তাদের মধ্য থেকে ইমাম বা নেতা বানিয়ে দিয়েছি সে সব লোককে যারা (লোকদের ) সঠিক পথে পরিচালনা করে থাকে আমারই হুকুম মুতাবেকতারা এ যোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হয় তাদের ধৈর্য ও দৃঢ়তার গুণে এবং আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি অটল আস্থার কল্যাণে। (সূরা আস-সাজদাহ ৩২:২৪)

এথেকে এ কথা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যেনেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব কেবলমাত্র সবর ও ইয়াকীন- ধৈর্য ও দৃঢ়তা এবং আল্লাহর প্রতি প্রত্যয় ও নির্ভরতার কল্যাণেই অর্জিত হয়ে থাকে। ‘সবর’ বা ধৈর্য হৃদয়ের অশুভ বাসনা এবং গর্হিত কামনাকে প্রতিরোধ করে আর ‘ইয়াকীন’ বা প্রত্যয় শোবা-সন্দেহদ্বিধা-দ্বন্দ্ব থেকে হৃদয়-মনকে পাক-পবিত্র ও নিষ্কলুষ করে তোলে।

এখানে এ কথা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যেনেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব কেবলমাত্র সবর ও ইয়াকীন- ধৈর্য ও দৃঢ়তা এবং আল্লাহর প্রতি প্রত্যয় ও নির্ভরতার কল্যাণেই অর্জিত হয়ে থাকে। ‘সবর’ বা ধৈর্য হৃদয়ের অশুভ বাসনা এবং গর্হিত কামনাকে প্রতিরোধ করে আর ‘ইয়াকীন’ বা প্রত্যয় শোবা-সন্দেহদ্বিধা-দ্বন্দ্ব থেকে হৃদয়-মনকে পাক-পবিত্র ও নিষ্কলুষ করে তোলে।

৩। জিহাদে কুফফারঃ কাফিরের বিরুদ্ধে জিহাদ।
৪। জিহাদে মুনাফিকীনঃ মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ। 

জিহাদে মুনাফিকীন ও জিহাদে কুফফার
মুনাফিক তথা কপট শ্রেণী এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদের স্তর চারটি। এর প্রথম স্তরে অন্তর দিয়েদ্বিতীয় স্তরে জবান দিয়েকথার মাধ্যমেউপদেশ দিয়েনসিহত করে বা তিরস্কার করেতৃতীয় স্তরে অর্থ ব্যয় করে এবং চতুর্থ স্তরে জান ও প্রাণ দিয়ে অর্থাৎ প্রকাশ্যে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে জিহাদ করতে হয়। হাদিসে বলা হয়েছে,
যে ব্যক্তি জিহাদ না করেকমপক্ষে জিহাদের বাসনা হৃদয়ে পোষণ না করে মৃত্যুবরণ করে তার মরণ হবে আংশিক কপটের মৃত্যু।

 জিহাদ হিজরতের দ্বারা পরিপূর্ণতা লাভ করে আর হিজরত এবং জিহাদের সমবায়ে ঈমান হয়ে উঠে বিশুদ্ধতরপূর্ণতর।


জিহাদকে কেন বৈধতা দেয়া হল?

-----------------------------------

জিহাদ ও যুদ্ধের পার্থক্য: যুদ্ধ আসলে ভালো কাজ নয়যুদ্ধ-বিগ্রহ দাংগা-হাংগামা মানুষের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনে না। তবেবিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে এটার দ্বারস্থ হতে হয়। যখন যুদ্ধ ছাড়া সমাজকে শান্তিপূর্ণ রাখার আর কোন পথ অবশিষ্ট থাকেনা তখনই বাধ্য হয়ে জিহাদের চূড়ান্ত স্তর যুদ্ধের মত কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। ঠিক তেমনি আল্লাহ তায়ালা জিহাদকে পবিত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে বৈধ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
• আর এ কাফেরদের সাথে এমন যুদ্ধ করো যেন গোমরাহী ও বিশৃঙ্খলা নির্মূল হয়ে যায় এবং দ্বীন পুরোপুরি আল্লাহ তায়ালার জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তারপর যদি তারা ফিতনা থেকে বিরত হয় তাহলে আল্লাহই তাদের কার্যকলাপ দেখবেন। (সুরা আনফাল: ৩৯)
অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন:
• তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকো যতক্ষণ না ফিতনা নির্মূল হয়ে যায় এবং দীন একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয় তাহলে জেনে রাখ জালেম তথা অত্যাচারী ছাড়া আর করোর ওপর হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়। (সুরা বাকারা: ১৯৩)

জিহাদ কখন ফরজ তথা আবশ্যক হয়?
----------------------

অধিকাংশ ইসলামিক স্কলারের মতে নিম্নের কয়েকটি অবস্থায় জিহাদ ফরজ হয়।
প্রথমত: যখন দুটি দল (মুসলিম ও অমুসলিম) পরস্পর মুখোমুখি হয়। যুদ্ধ ছাড়া আর কোন শান্তিপূর্ণ পথ খোলা থাকে না তখন উপস্থিত ব্যক্তিদের সেখান থেকে পলায়ন করা বৈধ নয়। তখন উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হয়ে যায় দৃঢ়পদ ও অবিচল থাকা। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
• হে ঈমানদারগণ! যখন কোন দলের সাথে তোমাদের মোকাবিলা হয়,তোমরা দৃঢ়পদ থাকো এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো বেশী বেশী করে। আশা করা যায়,এতে তোমরা সাফল্য অর্জন করতে পারবে। আর আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না,অন্যথায় তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা দেখা দেবে এবং তোমাদের প্রতিপত্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। অতএবতোমরা ধৈর্যধারণের পন্থা অবলম্বন কর,নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সুরা আনফাল: ৪৫-৪৬)
দ্বিতীয়ত: যখন শত্রুবাহিনী কোন মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর আকস্মিক আক্রমণ করে তখন নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের উপর আবশ্যক হয়ে যাবে তাদের গতিরোধ করা। তারা যদি সক্ষম না হয় তাহলেতাদের পার্শ্ববর্তী লোকদের উপর পর্যায়ক্রমে জিহাদ ফরজ হবে।
তৃতীয়ত: রাষ্ট্রপ্রধান যখন কোন সম্প্রদায়কে জিহাদে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন তখন জিহাদে যাওয়া আবশ্যক হবে। তবেকারও কোন ওজর থাকলে ভিন্ন কথা।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:

• হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কি হলো,যখনই তোমাদের আল্লাহর পথে জিহাদে বের হতে বলা হয়তখনি তোমরা মাটি কামড়ে পড়ে থাক?তোমরা কি আখেরাতের মোকাবিলায় দুনিয়ার জীবনকে বেশী পছন্দ করে নিয়েছ?যদি তাই হয় তাহলে তোমরা মনে রেখ,দুনিয়ার জীবনের এমন সাজ সরঞ্জাম আখেরাতে খুবই সামান্য বলে প্রমাণিত হবে। তোমরা যদি না বের হও তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তোমাদের জায়গায় আরেকটি দলকে নিয়ে আসবেন,তখন তোমরা আল্লাহ তায়ালার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তিনি সব বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান (সুরা তাওবা: ৩৮-৩৯)