অপ্রিয় সত্য
অপ্রিয় সত্য


ভারতের আশীর্বাদ নিয়েই বেঁচে থাকে বাংলাদেশ ??
ভারতের আশীর্বাদ নিয়ে বেচে থাকে বাংলাদেশ। এজন্য দেখবেন, মওকা মওকা বিজ্ঞাপনের শেষ অংশে ভারতীয় ছেলেটি হাত উঁচু করে আশীর্বাদ করে আর বাংলাদেশী ছেলেটি তাকে প্রণাম করে আশীর্বাদ গ্রহণ করে। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সেই সকল আশীর্বাদের কিছু প্রমাণ আমি তুলে ধরছি।
১) আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। নেই ভালো কোন রিয়েল স্টেট বা কন্সট্রাকশন কোম্পানি। যদি বাংলাদেশের সেই ক্ষমতা থাকতো তবে কেন ??

(ক) যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার ভারতীয় সিমপেক্স ইনফ্রাস্ট্রাচারসকে দিয়ে কেন তৈরি করা হলো ?? (http://goo.gl/gBDrmY)

(খ) কেন দ্বিতীয় ভৈরব সেতু ভারতীয় কোম্পানি ইরকন ও এফকন্সকে দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে ??
(http://goo.gl/KbXQjD)

(গ) কেন দ্বিতীয় তিতাস রেলসেতু তৈরি করা হচ্ছে ভারতীয় কোম্পানি গ্যানোন ও এফএলসিএলকে দিয়ে ??
(http://goo.gl/KbXQjD)

(ঘ) কেন ভারতের সাহারাগ্রুপ দিয়ে উপশহর বানানো হচ্ছে?? (http://goo.gl/1vnRTd)

(ঙ) কেন বাংলাদেশে নৌ টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত ?? (http://goo.gl/V9I6rE

উপরে উল্লেখিত ভারতীয় কোম্পানিগুলো নিজ দেশেই বিতর্কিত। এসকল বিতর্কিত কোম্পানিকে বাংলাদেশে এনে কাজ করালে কি প্রমাণ হয় না, বাংলাদেশ একটি অনুন্নত ও ভাঙ্গারি রাষ্ট্র ???

২) ভারতীয়দের বদ্ধমূল ধারণা, বাংলাদেশে কোন উন্নত ছাপাখানা বা প্রেস নেই। যদি থাকতোই, তবে কেন বাংলাদেশের স্কুলের বোর্ডের টেক্সটবুকগুলো ভারতের ছাপাখানা থেকে ছাপিয়ে আনতে হচ্ছে ?? এর দ্বারা প্রমাণ হয়, বাংলাদেশের স্কুলগুলো ভারতের ছাপাখানার উপর নির্ভরশীল। (http://goo.gl/lDalr1)

৩) ভারতের জনগণ নিশ্চিত, বাংলাদেশের মানুষ প্রাণ রক্ষাকারী ঔষধের জন্য ভারতের উপর নির্ভরশীল। এইতো কিছুদিন আগে, ভিটামিন এ ক্যাপসুল আনা হলো ভারতীয় কোম্পানি অলিভ হেলথ কেয়ারের থেকে, ভ্যাকসিন আনা হলো ভারতীয় সিরাম ইন্সটিউউট থেকে। বলাবাহুল্য অলিভ হেলথ কেয়ার কিংবা সিরাম ইন্সটিটিউট দুটোই ভারতের নিম্নমানের ঔষধ নির্মাতা। বাংলাদেশে যদি ভালো ঔষধ কোম্পানি থাকতোই তবে তারা কেন ভারতের ফালতু কোম্পানির কাছে ঔষধ বানাতে গেলো ??

৪) ভারতীয়রা বিশ্বাস করে বাংলাদেশের মানুষের সামান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোরও যোগ্যতা নেই। যদি থাকতো, তবে নিজেদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে ভারত থেকে কেউ বিদ্যুৎ আমদানি করে।
(http://goo.gl/RdyKng, http://goo.gl/5RqneP)

৫) ভারতের যে ট্রাক-বাস সারা বিশ্বে চলে না, সেই ট্রাক-বাস কেন বাংলাদেশ মোটা টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে আসে ? (http://goo.gl/0jAEuF)

৬) বাংলাদেশ ভারতের এতো খেয়ে বেচে থাকে। ভারত যেটা ফেলে দেয়, সেটা বাংলাদেশ মোটা টাকা দিয়ে কিনে আনে। যেমন: ভারতের নিম্নমানের রেল ইঞ্জিন, নিম্নমানের ড্রেজার, নিম্নমানের ডেমো ট্রেন, নিম্নমানের তেল ট্যাংকার, সবই বাংলাদেশ কিনে আনছে মোটা টাকা দিয়ে।
(http://goo.gl/PWvuax, http://goo.gl/J4ZW1u, http://goo.gl/q0lYNB,http://goo.gl/ZyM97Q)

৭) ভারতের ধারণা, বাংলাদেশের বাপেক্স-পেট্রোবাংলা নপুংসক খোজা কোম্পানি। যদি তাদের ক্ষমতা থাকতোই, তবে কেন তাদের রেখে বঙ্গোপসাগরে ভারতের ওএনজিসনামক এক নিম্নস্তরের কোম্পানি দিয়ে গ্যাস তোলা হচ্ছে। (http://goo.gl/rpTDsP)

৮) বাংলাদেশের মানুষের ঘিলুও কম। যদি বাংলাদেশীদের মাথায় বুদ্ধি থাকতোই, তবে কেন নিজেদের সুস্বাদু চাল পাচার করে ভারত থেকে স্বাদহীন চাল আমদানি করে? কেন নিজেদের সুস্বাদু পেয়াজ পাচার করে ভারতের স্বাদহীন লাল পেয়াজ আমদানি করে নিয়ে আসে।
(http://goo.gl/xl5GxB, http://goo.gl/fvGqQH, http://abblog.net/13,http://goo.gl/Ym1BD2)

৯) ভারতীয়রা বিশ্বাস করে, বাংলাদেশে ভালো কোন তেল, নুন, সাবান, কাপড়, শাড়ি কোম্পানি নেই। নেই ভালো কোন ফেন্সিডিল/ইয়াবা কোম্পানিও। যদি থাকতেই তবে কেন প্রতি বছর ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বাংলাদেশ ভারত থেকে কিনে নিয়ে আসে ?

উপরের ৯টি উদাহরণ পড়লে আপনি নিশ্চিত হবেন, কেন ভারতীয়রা বিশ্বাস করে ভারতের আশীর্বাদ নিয়ে বেঁচে আছে বাংলাদেশে। তাই মওকা মওকা বিজ্ঞাপন নিয়ে নিন্দা করার কিছু নেই।

অপ্রিয় সত্য


অপ্রিয় সত্য



সম্প্রতি ভারতের উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন বিশ্বহিন্দু পরিষদের (ভিএইপি) শীর্ষ নেতা অশোক শিঙ্ঘোল বলেছে, “প্রত্যেক হিন্দু পরিবারের উচিত কমপক্ষে ৫টি করে সন্তান নেয়া, নয়তো অতিশীঘ্রই ভারতে হিন্দুদের সংখ্যালঘুতে পরিণত হতে হবে।
উল্লেখ্য, এ ধরনের কথা এই প্রথম নয়, এর আগেও উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসর জয়েন্ট সেক্রেটারি দত্তত্রেয়া হোসাবেলি বলেছিল, “হিন্দুদের বেশি করে সন্তান নেয়া উচিত, নয়তো খুব শীঘ্রই হিন্দুরা ভারতে সংখ্যালঘুতে পরিণত হতে যাচ্ছে।
আরো উল্লেখ্য, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসর ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য মতে, ২০৩৫ সালে ভারতের জনসংখ্যা ১৯৭.৭ কোটি হবে, যার মধ্যে অর্ধেক তো অবশ্যই বরং একটি বিরাট সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে মুসলমানগণ। প্রকৃতপক্ষে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে সবসময় লুকোচুরি করে গেছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকারগুলো, প্রকাশ করেনি প্রকৃত সংখ্যাটা।মিথ্যাচার যে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তার উদাহরণ দেখুন, ২০১০ সালে ৩রা মার্চ হায়দ্রাবাদ থেকে প্রকাশিত ইতিমাদনামক উর্দু পত্রিকায় একই দিনে দুই জন দুই ধরনের বক্তব্য দেয়। মনমোহন সিং দাবি করে, ভারতের মুসলমানদের জনসংখ্যা ১৭ কোটি এবং হায়দ্রাবাদের রাজনীতিবিদ আসাদুদ্দীন ওয়াইসি দাবি করে মুসলমানদের জনসংখ্যা ১৩ কোটি। আসলে কেউই রাজি নয় মুসলমানদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করতে।

২০০১ সালে আদমশুমারি করে ভারত সরকার দাবি তাদের দেশে মুসলিম জনসংখ্যা মাত্র ১৩.৪%, কিন্তু এ দাবি করার পর সিএনএন-আইবিএন ও হিন্দুস্থান টাইমের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে জরিপে বেরিয়ে আসে অধিকাংশ ভারতীয় মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে লুকোচুরি ধরে ফেলেছে এবং একে মিথ্যাচার বলে উল্লেখ করেছে। ২০১০ সালে আরেকটি জরিপে দেখানো হয়, আসামে মুসলিম জনসংখ্যা হচ্ছে শতকরা ৪০%, অর্থাৎ ৫ কোটির মধ্যে ২ কোটি ৩৫ লক্ষ মুসলমান; উত্তর প্রদেশের ২২% মুসলমান, অর্থাৎ ২৩ কোটির মধ্যে ৫ কোটি মুসলমান; পশ্চিম বাংলায় ৩০% মুসলমান, অর্থাৎ ৫ কোটির মধ্যে ২ কোটি ৭০ লক্ষ মুসলমান এবং বিহারে ২০% মুসলমান, অর্থাৎ ১৩ কোটির মধ্যে ২ কোটি ৬০ লক্ষ মুসলমান। সহজভাবে হাতে গুণলেই এ চার প্রদেশে দাঁড়ায় ১৩ কোটি মুসলমান, বাকি ২৫ প্রদেশ বাদই থাকলো।

ভারতে প্রকৃত মুসলিম জনসংখ্যা কত:
১৯৮৪ সালে মধ্য প্রদেশের এমপি উবাইদুল্লাহ খান আজমী ভারতের মুসলমানদের জনসংখ্যা ২৫ কোটি বলে উল্লেখ করেছিল, যখন সারা ভারতের জনসংখ্যা ছিল ৭৫-৮০ কোটি। ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময় উগ্রবাদী হিন্দুরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে লিফলেট ছড়ায় তাদের মুসলমানদের জনসংখ্যা ৩৫ কোটি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। আসলে জনসংখ্যা নির্ণয়ের জন্য দরকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নির্ণয় কিংবা কত গতিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ভারত সরকার নিজেই যেহেতু চাচ্ছে না বিষয়টা প্রকাশিত হোক, সেহেতু মূল হিসাব সবসময় গোপন থেকে যাচ্ছে। দেশের মূল জনসংখ্যা বৃদ্ধি হিসাব করে ভারতের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে মুসলমানদের জনসংখ্যা প্রকৃত বৃদ্ধির হার বের করা কঠিন। কারণ ভারতে বিভিন্ন জাতির পাশাপাশি বসবাস। কিন্তু পাকিস্তানে ১৯৪৭ সালের পর থেকে প্রায় শতভাগ মুসলিম বসবাস। সে হিসেবে পাকিস্তানের জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেখে প্রকৃত হিসাব বের করা সোজা। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল ৩ কোটি এবং ২০৫০ সালে তা দাঁড়াবে কমপক্ষে ৩০ কোটিতে। তাহলে ১০৩ বছরে জনসংখ্যা বেড়ে হয় ১০ গুণ, শতকরা হিসাবে ৯০০%। অর্থাৎ মুসলিম জনসংখ্যা প্রতি ১০০ বছরে ৯ গুণ, ৫০ বছরে ৪.৫ গুণ এবং ৩০ বছরে ২.৭ গুণ হয়। এখন ভারত-পাকিস্তান খুব কাছাকাছি হওয়াতে দুই দেশের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার খুব একটা বিভেদ হতে পারে না। [২০১১ সালে প্রকাশিত পিউ রিসার্চের এক গবেষণায় দেখা গেছে, আগামী ২০ বছর সারা বিশ্বে অন্যান্য ধর্মগুলোর যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি করবে তার থেকে দ্বিগুণ গতিতে বৃদ্ধি করবে মুসলমানরা।]

উগ্রবাদী হিন্দুদের হিসেব মতো, ২০০২ সালে মুসলিম জনসংখ্যা যদি ৩৫ কোটি হয়, তবে ১২ বছর পর সেই সংখ্যা দাড়ায় কমপক্ষে ৫০ কোটি। কিন্তু এর কম হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। তবে, আজমী সাহেবের মতে ১৯৮৪ সালে মুসলমান জনসংখ্যা যদি ২৫ কোটি হয়, তবে ৩০ বছর পর ২০১৪ সালে ১২৫ কোটি ভারতীয়র মধ্যে ৬৫.৫ কোটি মুসলমান থাকাটাই স্বাভাবিক। অর্থাৎ ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা কম করে হলেও প্রায় ৬৫ কোটি।
উল্লেখ্য, ভারতে মুসলমান জনসংখ্যা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই দাঙ্গার মাধ্যমে মুসলমানদের গণহারে শহীদ করে জনসংখ্যার হ্রাসের চিন্তা করা হয়,
জন্ম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মুসলমানদের জনসংখ্যা কমানোর জন্য কার্যক্রম চালানো হচ্ছেহিন্দুদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বারবার উৎসাহ দেয়া হচ্ছেনির্বাচনের সময় ভোট পাওয়ার জন্য হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদী সে মুসলমানদের সাথে কোলাকুলি করছে, মমতা মাথায় ঘোমটা দিয়ে মুসলমানদের সাথে মোনাজাত করছে, আর রাহুল গান্ধী টুপি পরে মসজিদে মসজিদে ঘুরছে। ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা যদি কমই হতো তবে এ ঘটনাগুলো ঘটতো না। আসলে ভারতের মুসলমানদেরকে হাতির মতো বানিয়ে রাখা হয়েছে, যে হাতি তার বিশাল কানের জন্য বিরাটকায় শরীর দেখতে পারে না। যদি সে তা পারতো, তবে অবশ্যই দুনিয়ায় তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতো। ঠিক তেমনি ভারতের মুসলমানরা যদি বুঝতে পারত তাদের জনসংখ্যা এখন হিন্দুদের থেকেও বেশি তবে তারা অনেক আগেই হিন্দুদের হটিয়ে ভারতের কর্তৃত্ব দখল করে নিতো।
মহান আল্লাহ পাক তিনি মুজাদ্দিদে আযম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় ভারতের মুসলমানগণ উনাদের সেই কুওওয়াত দান করুন। (আমিন)

অপ্রিয় সত্য


অপ্রিয় সত্য


কেবলমাত্র পাকিস্তানেই জাতীয় পতাকার অবমাননা বিষয়ক আইনি ধারা সুষ্পষ্ট নয় বলে জানি। এছাড়া বহির্বিশ্বে জাতীয় পতাকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য অক্ষুণ্ন রাখতে সুনির্দিষ্ট আইন ও শাস্তির বিধান রয়েছে। ভারতের জাতীয় পতাকা ব্যবহার বিধি কঠোর বলেই মানেন অনেকে। ভারতীয় ক্রিকেটার শচীন টেণ্ডুলকারের জন্মদিনের কেক তাদের জাতীয় পতাকার মতো তেরঙা ছিল বলে তাঁর বিরুদ্ধে পতাকা অবমাননার অভিযোগ উঠেছিল। বাদ যাননি অন্য সেলিব্রিটিরাও। একজনের পতাকা-রঙা শাড়ির পাড় পা ছুঁই ছুঁই করেছিল বলে বিষয়টা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। খেলার সময় পরিধেয় তাঁর হেলমেটে বিসিসিআই লেখার পর জাতীয় পতাকা অঙ্কিত ছিল বলে শচীন টেণ্ডুলকার আরও একবার পতাকার অসন্মানের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। এ জন্য তাঁকে তাঁর হেলমেটে প্রথমে জাতীয় পতাকা এঁকে তার নিচে বিসিসিআই শব্দটি লিখতে হয়েছিল।

সাধারণত এ ধরনের আচরণের পেছনে ব্যক্তির কু-উদ্দেশ্য কাজ না করলেও, তার অজ্ঞতাবশত অবমাননাকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। কখনও কখনও মানুষ দেশপ্রেমে উদ্বেল হয়েও পতাকার অবমাননা করতে পারে। বস্তুত প্রতিটি দেশের জাতীয় পতাকার ব্যবহারবিধি পতাকা ব্যবহারের আচরণবিধিগুলোকে সংজ্ঞায়িত করে তা অগ্রাহ্য করার শাস্তি নির্ধারণ করে দেয়। আইনি পদ্ধতিতে জাতীয় পতাকার মর্যাদা সুরক্ষায় ভারতের চেয়ে চীন আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সেখানকার আইনে আটকাদেশ, তিন বছরের জেল-জরিমানা ছাড়াও ব্যক্তির রাজনৈতিক অধিকার খর্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফিনল্যান্ড, জার্মানি ও ডেনমার্কে জাতীয় পতাকার অবমাননা অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের সংবিধান লঙ্ঘনকারী কর্মকাণ্ড কেউ করে, তবে শাস্তির মেয়াদ বেড়ে যায়। আরব বিশ্বের অনেক দেশেই জাতীয় পতাকায় ইসলামিক স্বাক্ষর রয়েছে। ইরানের পতাকায় আল্লাহু আকবরলিখিত আছে, আর সৌদি পতাকায় রয়েছে ইসলামি বিশ্বাস বাণী। এসব দেশে জাতীয় পতাকার মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং এর ন্যূনতম অবমাননা মূলত ইসলাম ধর্মের অবমাননার সামিল বলে বিবেচিত হয়।

লাল-সুবজ পতাকা হৃদয়ে ধারণ করে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ। ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিল এ দেশেরই মানুষ। নয় মাসের যুদ্ধে দেশ স্বাধীন করে আপন অস্তিত্ব, অধিকার, চেতনা ও মূল্যবোধ বিশ্ববাসীর কাছে ছড়িয়ে দিয়েছিল এ দেশই। ৩০ লাখ শহীদের রক্তে রাঙা আর নির্যাতিত ৪ লাখ মা-বোনকে জড়িয়ে রাখা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আমাদের অর্জন, আমাদের গর্ব, আমাদের অহঙ্কার। এ পতাকার ছায়াতলে আমরা বারবার একত্রিত হই। মিছিল করি পতাকা হাতে। প্রজন্মান্তরে সঁপে দিই এ পতাকা- এ আশ্বাসে যে, নতুন প্রজন্মই সমুন্নত রাখবে আমাদের বিজয়, আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের একাত্তর। এর অবমাননা মানে জাতির হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। জাতীয় পতাকার অসম্মানের অর্থ বাংলাদেশের জন্মইতিহাস উপেক্ষা করা। আজ সে ধৃষ্টতাই দেখিয়েছে অপশক্তির ধারকরা। জাতীয় পতাকার প্রতি গর্হিত অবমাননামূলক আচরণের তালিকায় রয়েছে পতাকা পোড়ানো, পদদলিত করা, ছিঁড়ে ফেলা, কেটে ফেলার মতো উগ্রতা। আর এ চিত্রই এখন ভাসছে জাতির সামনেজাতীয় পতাকার অর্ধেক ছেঁড়া অংশ। রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কথা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে জনতার কানে – ’জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন।’ প্রকাশ্যে যারা জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছে, তারা একই সঙ্গে রাষ্ট্রবিরোধিতার অশনিসঙ্কেত দিয়ে গেছে। জনতা এ সঙ্কেত সম্পর্কে ওয়াকেবহাল, রাষ্ট্রকেও উপলব্ধি করতে হবে জনতার মতো করে। রাষ্ট্রকে চিহ্নিত করতে হবে জাতীয় পতাকার অবমাননাকারী এ অপরাধী গোষ্ঠীকে।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে, ১৯৭২ সালে পতাকা আইন করা হয়েছিল। ২০১০ সালের জুলাই মাসে আইনটি সংশোধিত হয়, যার পেছনে মূল পর্যবেক্ষণ ছিল বিশেষত নাগরিকদের অজ্ঞতার কারণে জাতীয় পতাকার অবমাননা। সংশোধনীতে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত শাস্তি এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়। না জেনে, না বুঝে আর অতি-উচ্ছ্বাসে যারা পতাকার ব্যবহারবিধি লংঘন করেন, তাদের অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে এ শাস্তিবিধান যথাযথ হতে পারে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বাণিজ্যিক প্রচারণায়, বিজ্ঞাপনে জাতীয় পতাকার ব্যবহার বিধিবহির্ভূতভাবে করে থাকে, সে জন্য ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ন্যায়সঙ্গত নয়। অপরাধের মাত্রা ভেদে অর্থদণ্ডের পরিমাণ বৃদ্ধি করার আইনি বিষয়টি রাষ্ট্র বিবেচনায় আনতে পারে।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আইনে পতাকার প্রতি যে কোনো গর্হিত আচরণকে কীভাবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে, তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে। কোনো গোষ্ঠী, সংগঠন বা রাজনৈতিক দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে দেশে অরাজকতা বা অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য জাতীয় পতাকার অসম্মান করলে একে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া, অভিযোগ দাখিল করা ও অভিযোগের অংশে রাষ্ট্রবিরোধিতামূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা জরুরি। প্রয়োজনে এসব গোষ্ঠীর নাগরিক-সামাজিক-প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক অধিকার রহিত করতে সরকারকে ‍পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে জড়িত সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থাপনাগুলোতে (যেমন শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ) উস্কানিমূলক, অবমাননাকর, হেয়প্রতিপন্নকারী অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় চেতনা ও স্বাধীনতার পরিপন্থী আচরণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। স্বাধীনতাবিরোধীদের দ্বারা পতাকা অবমাননার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি অভিযোগ দাখিল করা হোক। পতাকা অবমাননার অভিযোগ উত্থাপন ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের বিলম্ব অবশ্যই অবহেলার সামিল হবে।

জনতা রাষ্ট্রের সঙ্গে আছেতা সে ঘরে থাকুক কী কর্মক্ষেত্রে বা রাজপথে। জনতা শাহবাগ থেকে শুরু করে দেশজুড়ে পতাকা মিছিল করবে প্রয়োজনে। আসছে উত্তাল মার্চে শহরের প্রতিটি বাড়ির ছাদে, গ্রামের উঠোনে উঠোনে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে বিজয়ের লাল-সবুজ নিশান উড়বে পত পত করে। প্রয়োজনে বিজয় ফুলবুকে ধারণ করে জীবিকার কাজ করে যাবে সবাই। এটা হবে আমাদের নিরব ও সরব প্রতিবাদ। এই হবে জাতীয় পতাকার প্রতি আমাদের উৎসর্গিত সম্মান। আমাদের পতাকা, আমাদের মান, সত্য, সুন্দর, বিজয় নিশান।’ এ বিজয় নিশান হাতে অগ্রসরমান জাতিকে, বুকে লাল-সবুজ লালন করা জনতাকে রুখবে কে?
অপ্রিয় সত্য

অপ্রিয় সত্য


বেশ সহজ একটা যুক্তি, জামায়াত একবার আওয়ামীলীগ আরেকবার বিএনপির সাথে জোট করেছে! তাই এরা মুনাফিক, ক্ষমতার জন্য জামায়াত সব করতে পারে। এই ধরনের যুক্তি হয় অজ্ঞরা দেয় আর না হয় বুঝেশুনে মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য কিছু লোক বলে বেড়ায়। অথচ, প্রকৃত অর্থে জামায়াত নয়, বিএনপি-আওয়ামীলীগই একবার জামায়াতের সাথে গেছে আরেকবার ছেড়ে গেছে। কেন ছেড়ে গেছে? ক্ষমতার জন্য! আর ইতিহাস তাই বলে।

বাংলাদেশে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতিতে জামায়াতের সূচনা হচ্ছে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে। ১৯৮১ থেকে বিএনপি-লীগ-জামায়াতের ঐক্যবদ্ধ গণতন্ত্রের দাবিতে দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। কিন্তু বিপত্তি বাধে নির্বাচন নিয়ে। কে এই নির্বাচন পরিচালনা করবে? সবাই এর আগে দলীয় অধীনে নির্বাচনের রূপ দেখেছেন, তাই কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে রাজী ছিলেন না। এই সমস্যার সমাধান নিয়ে আসেন জামায়াতের অধ্যাপক গোলাম আযম। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন৷ শাহাবুদ্দিন আহমদের অধীনে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এই নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ আনেন। কিন্তু তিনি এই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে শপথ গ্রহণ করেন। জামায়াত ১৮টি আসনে জয়লাভ করে। বিএনপি সরকার গঠন করার কিছুদিন পর থেকেই বিরোধী দলগুলো সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংযোজনের জন্য সরকারকে চাপ দিতে থাকে৷

সর্বপ্রথম জামায়াত এবং তারপর আওয়ামী লীগ ১৯৯৩ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত বিল সংসদ সচিবালয়ে পেশ করে৷ এতে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ ও নির্বাচনের সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবমুক্ত করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে সংযোজন করা উচিত৷ কিন্তু বিএনপি প্রথম থেকেই এ দাবি অসাংবিধানিক বলে অগ্রাহ্য করতে থাকে। ১৯৯৪ সালের ২৭ জুন সংসদ ভবনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে  আওয়ামী লীগ, জামায়াত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করে৷ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ওই রূপরেখাকে অসাংবিধানিক ও অবাস্তব বলে ঘোষণা করেন৷ বেগম জিয়া বলেন, একমাত্র পাগল ও শিশু ছাড়া কোন মানুষের পক্ষে নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয়। কমনওয়েলথ মহাসচিব সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মাঝে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন৷ এরপর নভেম্বরে কমনওয়েলথ মহাসচিবের প্রতিনিধি স্যার নিনিয়ান সমঝোতা প্রচেষ্টা চালান৷ তিনিও ব্যর্থ হন।

৬ ডিসেম্বর ১৯৯৪ জামায়াত ও আওয়ামী লীগ আলাদা সমাবেশ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়৷ সরকার তার অবস্থানে অনড় থাকায় ২৮ ডিসেম্বর বিরোধী দলের ১৪৭ জন সংসদ সদস্য পদত্যাগপত্র পেশ করে৷ ২৩ ফেব্রুয়ারি স্পিকার তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণযোগ্য নয় বলে রুলিং দেন। ১৯৯৫ সালের ১৯ জুন বিরোধী সংসদ সদস্যদের পরপর ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিতি পূর্ণ হয়। এতে সংসদে তাদের আসন শূন্য হবে কি-না এ নিয়ে বিতর্কে সরকারি দল ও স্পিকারের মাঝে মতদ্বৈধতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ মোতাবেক পদত্যাগী সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হবে কিনা জানতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে পরামর্শ চান৷ সুপ্রিম কোর্ট পদত্যাগী সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হওয়ার পক্ষে মত দেন৷ ৩১ জুলাই ১৯৯৫ সংসদ সচিবালয় থেকে ৮৭ জন বিরোধী সংসদ সদস্যর আসন শূন্য বলে ঘোষণা করা হয়৷ এছাড়া যে ৫৫ জন বয়কটকালে হাজিরা খাতায় সই করেছিলেন তাদের সংসদ সচিবালয় থেকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, যেদিন তারা হাজিরা খাতায় সই করেছিলেন সেদিন বৈঠকে তারা উপস্থিত ছিলেন কি-না৷ সংসদ সদস্যরা এ চিঠির কোনো উত্তর দেননি৷ অবশেষে ৭ আগস্ট ওই ৫৫ জনের আসনও শূন্য ঘোষণা করা হয়৷ নির্বাচন কমিশন ১৪২টি শূন্য আসনে ১৭ সেপ্টেম্বর উপ-নির্বাচনের ঘোষণা দেয়৷ পরে বন্যার কারণে উপ-নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে ১৫ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়৷ কিন্তু বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়৷ তারা সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২ সেপ্টেম্বর থেকে একটানা ৩২ ঘণ্টা হরতাল পালন করে৷ ৬ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা আবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব অসাংবিধানকি ও অযৌক্তিক বলে বাতিল করে দেন৷ প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোকে আলোচনার জন্য ডাকেন৷ কিন্তু বিরোধী দলগুলো আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে৷ এরপর ১৬ নভেম্বর ১৯৯৫ থেকে একাধারে ৭ দিন হরতাল পালিত হয়া

হরতাল আর অবরোধের ফলে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চরম দুরবস্থার মুখোমুখি হয়৷ সরকার উপ-নির্বাচনে না গিয়ে ২৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেয় এবং ১৮ জানুয়ারি ১৯৯৬ সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়৷ পরে তৃতীয়বারের মতো তারিখ পরিবর্তন করে নতুন তারিখ দেয়া হয় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি৷ সব বিরোধী দল এ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়৷ বিরোধী দলগুলোর প্রতিরোধের মুখে ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়৷ দেশব্যাপী সহিংসতায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়৷ সারা দেশ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় নিপতিত হয়৷ ২৪, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলের আহ্বানে দেশব্যাপী অসহযোগ পালিত হয়৷ ৩ মার্চ জাতির উদ্দেশে ভাষণে খালেদা জিয়া ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল আনার ঘোষণা দেন৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় ষষ্ঠ সংসদ বাতিল ও পদত্যাগ সম্পর্কে কোনো কথা না থাকায় বিরোধী দলগুলো তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখে৷ ৬ মার্চ হরতাল ডাকা হয়৷ ওই দিন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের পুনঃ-নির্বাচনে সহিংসতায় ৯ জন নিহত হয়৷ এরপর ৯ মার্চ থেকে সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী দলগুলো লাগাতার অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে৷ এই অসহযোগের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে রাষ্ট্রপতি সংলাপ আহ্বানের জন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করেন৷ প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর চিঠি বিনিময় হয়৷ পাঁচ বুদ্ধিজীবী বিভিন্নভাবে সমঝোতার চেষ্টা করেন৷ কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

২৩ মার্চ প্রেস ক্লাবের সামনে সচিবালয়ের সরকারবিমুখ কর্মকর্তারা তাদের চাকুরীর নিয়ম ভঙ্গ করে জনতার মঞ্চ স্থাপন ও সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেয়। অসহযোগ আন্দোলনের মাঝেই ১৯ মার্চ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রীপরিষদ গঠিত হয় এবং ষষ্ঠ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে৷ কিন্তু সারা দেশে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা শুরু হয়৷ সরকার মার্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল সংসদে উত্থাপন করে৷ ২৬ মার্চ সরকার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়৷ ২৮ মার্চ সচিবালয়ের ভেতরে ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সচিবালয়ের ভেতরে-বাইরে সেনাবাহিনী, পুলিশ মোতায়েন করেও বিক্ষুব্ধ সচিবালয়কে নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ব্যর্থ হয়৷ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ৩০ মার্চ রাষ্ট্রপতি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয় এবং খা-লেদা জিয়া পদত্যাগ করেন৷ রাষ্ট্রপতি সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবর রহমানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করেন৷

১৯৯৬ এ জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করেছিলো। ৯১ এ যেখানে আসন সংখ্যা পেয়েছিল ১৮ টি সেখানে ৯৬ এ পায় ৩ টি। বিএনপি ও সেই অবস্থার মুখোমুখি হয়। জনপ্রিয়তা শূন্যের কোটায় নেমে আসা আওয়ামীলীগ, যারা ৮৬ তে প্রথমে অস্বীকার করে পরে ক্ষমতার লোভে নির্বাচন করেছিলো তারা নিজ কৃতকর্মের জন্য তওবা করে হাতে তসবি, মাথায় পট্টি বেঁধে ভোট চেয়ে এগিয়ে গেল। এই শাসনামলেই খালেদা জিয়া টের পান শেখের বেটি হাসিনা ক্যেয়া চিজ হ্যাঁয়! পরপুরুষের চুমু খাওয়া, প্রকাশ্যে মদ্যপান, মাথায় তিলক নেয়া সহ বায়তুল মোকাররমে পুলিশ কর্তৃক গুলি-জুতা পায়ে প্রবেশ, আলেম হত্যা-নির্যাতন, মাদ্রাসায় তালা লাগানোশেখ মুজিবের ছবি দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টাঙ্গানো............ আর কতকিছু মানুষ চোখে দেখার সুযোগ পায়। (এখনো পাচ্ছে!)

খালেদা এতো দিনে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে জনগণের ম্যেন্ডেট নিয়েই ক্ষমতায় যেতে হবে, আর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া হাসিনাকে হটানো অসম্ভব। গঠন করা হয় চার দলীয় ঐক্য জোট, যার মধ্যে ইসলামী দল ছিল- জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। এর পরের ইতিহাসতো সকলেরই জানা। একটু চিন্তা করে দেখবেন কি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কারা পেশ করেছে? আওয়ামীলীগ কেন জামায়াতের সাথে, কি উদ্দেশ্যে আন্দোলন করেছে? বিএনপিই বা কেন জামায়াতকে টেনে নিয়েছে?

উত্তর স্পষ্ট: নিজেদের স্বার্থে; জামায়াত শুরু থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়ে আসছে আর বিএনপি একবার এই দাবি নিয়ে জামায়াতের সাথে থেকেছে আরেকবার আওয়ামীলীগ। ২০০১ এর আগে জামায়াত তিনবারই সরকার বিরোধী ছিল। তারা ক্ষমতা লোভী হলে ৯১ এর সরকার থেকে বেরিয়ে আসতো না, ৯৬ এর আগে পরে আওয়ামীলীগের সাথে থাকতো। আরেকটা কথা, বিরোধিতা কি শুধু জামায়াতের জন্য প্রযোজ্য? ইসলামী দল গুলোর তালিকা অনেক দীর্ঘ; যাদের জন্য নারী নেতৃত্বও হালাল, জোট করাও হালাল।

অপ্রিয় সত্য


অপ্রিয় সত্য
জামায়াত ও নারীনেতৃত্ব

খালেদা জিয়াকে একটি দলের নেতা(নেত্রী), দেশের নেতা(নেত্রী) কে বানিয়েছে? জামায়াত? না দেশের লোকযখন তিনি দেশের প্রধান তখন তার কথা না শুনলে হবে দেশদ্রোহী, যখন দলের প্রধান তখন তার দলের সাথে কেউ আলাপ করতে হলে অবশ্যই মহিলার সামনে যেতে হবে... আপনি একটি ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান, আপনার পার্শ্ববর্তী দেশের প্রধান মহিলা, তিনি আপনার দেশে সফরে এসে যখন আপনার সাথে দেখা করবেন, তখন আপনি কি করবেন?

দেশের সকল আলেম-উলামা বিভিন্ন ইস্যুতে তার সাথে দেখা করেছেন, এটা আলেম উলামার দোষ না... দোষ তাদের যারা তাকে এই আসনে বসিয়েছে।শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই কথা। দেশের ৯০% ভাগ মানুষের ভোট পায় আ,লীগ আর বি,এন,পি। বাকিরা জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্যরা পায়। নারী নেতৃত্ব হারাম বলেন অথচ যারা তাদের এই আসনে বসায় তাদের কিছু বলেন না, দোষ শুধু জামায়াতের! চারদলীয় জোটেও (বর্তমান আঠার দলীয়) তো অন্যান্য ইসলামিক দল আছে, তাদেরও কিছু বলেন না...

একজন মহিলা যখন কোন দেশ, সংগঠন বা দলের প্রধান হন তখন তিনি আর শাব্দিক মহিলাথাকেন না, তার পরিচয় তখন দেশ/সংগঠন/দলের প্রধান। স্মরণ রাখা দরকার যে, জামায়াতের জোট বিএনপির সাথে, খালেদার সাথে নয়। বিএনপি কাকে নেতা/নেত্রী বানাবে এটা তাদের বিষয়। একজন মুসলিম মহিলা দেশের প্রধান হলে তিনি কি হোন? কাফির? ফাসিক মুশরিকতার দলটি/দেশটি ও কি  কাফির, ফাসিক, মুশরিক হয়ে যায়রাসূল সঃ দেশের শান্তি শৃঙ্খলার জন্য যেখানে মদিনা সনদে ইহুদিদের সাথে চুক্তি করতে পারেন, মক্কার মুশরিকদের সাথে হুদাইবিয়ার সন্ধি করতে পারেন।

খালেদা জিয়া ভাল করে জানেন যে জামায়াত নারী নেতৃত্ব মানেনা, জামায়াতের মহিলা সংগঠন থাকলেও কোন মহিলা কখনো আমীর হন না... দেশের প্রয়োজনেই তাকে জামায়াতের সাথে থাকতে হচ্ছে। জামায়াতকেও ইসলামের প্রয়োজনে বিএনপির সাথে থাকতে হচ্ছে। অন্যান্য ইসলামী দল কখনই বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সমকক্ষ হবে না, জামায়াতের মত ইসলামী দল বি,এন,পি এর সাথে না থাকলে বি,এন,পি কখনই ইসলামী ইস্যুতে আন্দোলন করতনা। দেখাই যাচ্ছে দেশের প্রধান দুটি দল ইসলাম বিরোধী, যেহেতু দুই দলেরই প্রধান মহিলা ও বেপর্দা, আর দেশের ৯০% মানুষ তাদেরসমর্থন করে/ভোট দেয়, সেখানে দেশের অর্ধেক মানুষকে ইসলামের পক্ষে আনার (পরোক্ষ ও রাজনৈতিকভাবে হলেও) কাজ জামায়াতই করছে।

যারা বিরোধিতা করেন তারা এটা চিন্তাও করে না দেশের কোন ইসলামিক দল একক ভাবে নির্বাচিত হতে পারবে না, আর জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপি ও জয়ী হতে পারবেনা... জামায়াত খুব ভাল করেই জানে নৈতিক দিক থেকে আলীগ আর বিএনপির মধ্যে কোন পার্থক্য নাই! শুধু আলীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের ও ইসলামের যে ক্ষতি হতো তার থেকে দেশকে বাঁচানো যায়! জামায়াতকে ছাড়লে ক্ষমতায় তো আলীগই যাচ্ছে, নয়কি?

আরও কথা আছে, কতক্ষণ পর্যন্ত আনুগত্য করতে হবে তার একটা সীমা আছে। মুসলিম নামধারী শাসক ব্যক্তি খারাপ হলেও যতক্ষণ না ইসলামী বিধান পালনে বাঁধা না দেবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার বাধ্য থাকতে হবে, পাঁচ জন মুসলমানের মধ্যে তিনজন একদিকে আর দুইজন আরেক দিকে মত দিলে তিনজনের মতটাই গ্রহণযোগ্য হবে এবং পাঁচজনের সকলেই এটা মানতে বাধ্য। দেশের প্রধান তখন আর শুধু তার দলের প্রধান থাকেন না। একজন নারী ঘটনাক্রমে দেশের প্রধান হয়ে গেছেন, এখন আপনি কি করবেন? 

আপনাদের যা ভাল মনে হয় করেন! শুধুমাত্র ইগোর বশবর্তী হয়ে আরেকজন মহিলাকে, তাও ইসলাম বিরোধী কাউকে ক্ষমতায় বসাবেন না। যদি মনে করেন জামায়াত একা নির্বাচন করলে সমর্থন বেশী পাবে, তাহলে শুনে রাখুন জামায়াত তা করে দেখেছে- "অশিক্ষিত (অন্তত ইসলামী শিক্ষায়) জনগোষ্ঠী বড়ই নির্বোধ"।