অপ্রিয় সত্য


অপ্রিয় সত্য

শ্রীনাথ রাঘবন



১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় এক গবেষক। তিনি বলেছেন, তারা যে দেশের স্বাধীনতা চান, সেটা মার্চ মাস পর্যন্ত কোথাও বলেননি। ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাথে এক সাক্ষাৎকারে গবেষক শ্রীনাথ রাঘবন একথা বলেছেন। বাংলাদেশের জন্ম নিয়ে তিনি একটি বইও লিখেছেন।

শ্রীনাথ রাঘবন লন্ডনের কিংস কলেজের রিসার্স ফেলো এবং সেন্টার ফর পলিসি রিসার্সের সিনিয়র ফেলো। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলেছে, সহিংসতার মধ্যেই নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে। এই সহিংসতার কিছু কারণ প্রথিত আছে অতীতের মাঝে। এরই সূত্র ধরে শ্রীনাথ রাঘবনের বই ’1971 : A Global History of the Creation of Bangladesh’ (১৯৭১ : বাংলাদেশ সৃষ্টির বৈশ্বিক ইতিহাস) নিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাংবাদিক আশিস ইয়েচুরি।
পরিবর্তন-এর পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি হুবহু অনুবাদ করা হলো-
আপনার বই ১৯৭১ : বাংলাদেশ সৃষ্টির বৈশ্বিক ইতিহাস’ –কেন বৈশ্বিক?
শ্রীনাথ রাঘবন : সাধারণভাবে বাংলাদেশ সৃষ্টির বিষয়টিকে দেখা হয় উপমহাদেশীয় ব্যাপার হিসেবে। প্রচলিতভাবে এটাকে দেখা হয় দ্বিতীয় দেশভাগ হিসেবে। এটা আমার কাছে খুব সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি মনে হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক। এখানে সেইসব পরিপ্রেক্ষিতকে বিবেচনায় নেয় না, যে পরিপ্রেক্ষিতের ফলে এটা সম্ভব হয়েছিল এবং নির্ধারিত হয়েছিল চূড়ান্ত ফলাফল। এটা ছিল বৈশ্বিক ঘটনা পক্ষগুলো ভেবেছিল তাদের বৈশ্বিক সমর্থন আদায় করতে হবে। এক অর্থে মাঠের যুদ্ধের সাথে বৈশ্বিক মতামতের যুদ্ধের মিলন ঘটেছিল। এসব ঘটনা (একাত্তরের) অনুধাবনের ক্ষেত্রে এটাই কেন্দ্রীয় বিষয়।
আপনি মনে করেন বাংলাদেশ সৃষ্টি অনিবার্য ছিল না, বরং আপনি এমন কিছু বিষয়ের কথা বলেছেন যা ১৯৭১ তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখে। এটা কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
শ্রীনাথ রাঘবন : বাংলাদেশ সম্পর্কে নির্ধারণমূলক যে পাঠ প্রথমেই আমাদের সামনে আসে তা হল, ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের নাজুক অবস্থা। ভৌগলিক ব্যাপার নিয়েও যুক্তি আছে- একই দেশের দুই অংশ ভারত দ্বারা ভাগ হয়ে রয়েছে। সেই সাথে আছে অর্থনৈতিক বৈষম্য, বাঙালি ও পশ্চিম পাকিস্তানিদের সাংস্কৃতিক ভিন্নতা এবং দুই অংশের ক্ষমতা বিভাজনে একপেশে অবস্থার যুক্তিও। কিন্তু আমার যুক্তি হল, স্বায়ত্তশাসনের দাবি কীভাবে স্বাধীনতার দাবিতে পরিণত হল সেটা বোঝার জন্য আসলে এইসব প্রেক্ষাপটের দিকে নজর দেওয়ার দরকার নেই। আমাদের দরকার একটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপট।
আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কি এমন যে, পাকিস্তান যদি অতো কঠোরভাবে জবাব না দিত, তাহলে স্বাধীন বাংলাদেশ হতো না?
শ্রীনাথ রাঘবন : সেক্ষেত্রে একটা শিথিল কনফেডারেশন হতো যা ১৯৭১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন। মার্চ পর্যন্ত আওয়ামী বলত না যে, তারা সরাসরি স্বাধীনতা চায়। তারা পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের অধিকার সংবলিত একটি শিথিল কনফেডারেশন চেয়ে আসছিলেন। ওই সময় আশা করা হচ্ছিল, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শিথিল কনফেডারেশন করা হবে এবং বাঙালিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তারা অধিকতর ক্ষমতা পাবে; ন্যায্য ভাগ পাবে।
কেন এটাকে ১৯৬৮ সালের চেতনার সাথে সম্পর্কিত করছেন?
শ্রীনাথ রাঘবন : আমার কাছে মনে হয়, ১৯৬৮ সালের ছাত্র আন্দোলন ছিল পাকিস্তানের ইতিহাসের বাঁক ঘুরিয়ে দেওয়ার ঘটনা। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সম্পদ দখল করা সত্ত্বেও পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে ভালো করছিল এবং আইয়ুব খান ১০ বছর ক্ষমতা থাকতে পেরেছিলেন। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ছাত্র আন্দোলন পরিবর্তনের সূচনা করে। ছাত্র আন্দোলন তখন ছিল একটা বৈশ্বিক ঘটনা এবং আমি সিআইএর একটি নথির উদ্ধৃতি দিয়েছি, যেখানে তারা বলেছিল এটা বৈশ্বিক আন্দোলন। পাকিস্তানে এই ছাত্ররা ছিল ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের। শেখ মুজিবুর রহমান নিজেও ১৯৪০-এর দশকের একজন ছাত্রনেতা ছিলেন; ভিন্ন আশা নিয়ে তিনি পাকিস্তানের জন্য আন্দোলন করেছিলেন। এই ছাত্র আন্দোলনের প্রগতিবাদিতা আওয়ামী লীগকে বাধ্য করেছিল দরকষাকষিতে তাদের অবস্থান কম নমনীয় রাখতে।
এই সময় এর মধ্যে ইসরায়েল জড়িয়ে পড়ছে বলে আপনি মন্তব্য করেছেন একটু বিস্তারিত বলবেন?
শ্রীনাথ রাঘবন : ভারতকে অস্ত্র সরবরাহের ইতিহাস ইসরায়েলের আছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে তারা কিছু অস্ত্র পাঠিয়েছিল। সুতরাং ইসরায়েলের সাথে ভারতের একটি গোপন সম্পর্ক ছিল। ১৯৭১ সালে অস্ত্র দেওয়ার ব্যাপারে আমেরিকানরা জানে এমন কোনো প্রমাণ নেই। যেহেতু ওই সময় তারা নিজেদের মারাত্মক বিচ্ছিন্ন বোধ করছিল, সেহেতু ভারতের কাছে সম্পূর্ণ কূটনৈতিক স্বীকৃতি পাওয়া ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা মনে করত, এটা তাদের জন্য সহায়ক হবে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

অপ্রিয় সত্য


অপ্রিয় সত্য
হায়দার ফারুক মওদুদী


আল্লামা মওদুদী সাহেবের পুত্রের বক্তব্য নিয়ে যারা ধূম্রজাল সৃষ্টির পায়তারা করছেন তাদের বলিঃ আচ্ছা নূহ (আঃএর এক পুত্র কি কুফরি করেনিসে কি নূহ (আঃএর কিসতিতে উঠতে অস্বীকৃতি জানায় নিএতে কি নূহ (আঃএর কাফেলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছেএতে কি নূহ (আঃএর মর্যাদা কমে গেছে

রাসূল (সঃ) চাচা ইসলাম কবুল করেন নি। ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল বান্নার ছোটভাই জামাল আল বান্না সেক্যুলারপন্থী ছিলেন। এতে কি আদর্শের আন্দোলন থেমে ছিল?? তাহলে মওদুদী সাহেবের পুত্র তার পিতার আদর্শকে প্রত্যাখ্যান করলে সে কাফেলায় উঠতে অস্বীকৃতি জানালে ''এত কেনকেন?" করতে হবে কেনএই হায়দার ফারুক মওদুদীর কাহিনী বাঙালীদের কাছে নতুন হতে পারেপাকিস্তানের সবাই তার কীর্তিকলাপ জানে। উস্তাদ মওদুদী তাঁর লাইব্ররী এবং 'তাফহীমুল কুরআনএর গ্রন্থস্বত্ত্ব জামায়াতে ইসলামীকে দান করে গিয়েছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর পর হায়দার সাহেব সেগুলো দাবী করে বসলেন এবং মামলায় হারলেন। এরপর থেকেই শুরু হলো জামায়াত বিদ্বেষ। হায়দার ফারুক মওদুদীর তার পিতার এবং জামায়াত বিদ্বেষের কারন শুনুন মওদুদীর আরেক পুত্র খালিদ মওদুদীর মুখেঃ
http://www.forum.jamaat.org/forum/jamaat-e-islami-pakistan/ji-questions-answers/144-reality-of-haidar-farooq-maududi-allegations-on-jamaat-e-islami
হায়দার ফারুক মওদুদী সাহেব যদি এদেশে ইসলাম বিষয়ক কোন বক্তব্য দিতে আসতেন তাহলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু তিনি দালালী করতে এসেছেন সেক্যুলারিজম পক্ষে। নাস্তিক মুরতাদ এবং ইসলামের জঘন্য দুশমন শাহরিয়ার কবিরের সাথেই তার যত পিরিতি!!

'আমাদের সময়পত্রিকার রিপোর্টের শেষ দিক লক্ষ্য করুনঃ

"পাকিস্তানি ইসলামিক স্কলার হায়দার ফারুক মওদুদি আজ বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন বলে আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির।বাহ কি চমৎকার। ইসলামী স্কলার (?) দালালী করেন সেক্যুলারিজমের। শাহরিয়ার কবিরের কথা থেকে এটা বুঝতে আর বাকী থাকে না যে কারা মওদুদী সাহেবের নষ্টপুত্রকে এদেশে এনে নাটক সাজাচ্ছেন!!! পাকিস্তান জামায়াতের সাথে বাংলাদেশ জামাআতের সম্পর্ক নিয়ে মওদুদী সাহেবের এই পুত্র আতঙ্কজনক সংবাদ দিয়েছেনঃ 
"তারা হচ্ছে ডান হাত আর বাম হাততাদের মস্তিষ্ক একই।"

হাস্যকর একটি কথা।
আমিতো বলি সারা পৃথিবীতে যত ইসলামী আন্দোলন আছে সকলের মস্তিষ্ক একটাই। তুরস্কের সাদাত পার্টিমিশরে ইখওয়ানতিউনিশিয়ার আন নাহদাবাংলাদেশ ভারত পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামীর ধমনীতে একই রক্ত প্রবাহিত। বাঙালী বীরের জাতিএইটুকু শুনে তাদের হার্ট এটাকের কোন কারন নেই!!!

জিহাদ কি?

Posted by Unknown on 10:06 with

অপ্রিয় সত্য


অপ্রিয় সত্য
অপ্রিয় সত্য

সাম্প্রতিক সময়ে ‘জিহাদ’ শব্দটি পত্রিকাগুলোতে প্রায়ই ব্যবহার করতে দেখা যায় ‘জিহাদি বই’ স্টাইলে। জিহাদ কি এবং কেন আর জিহাদ বলতে আসলেই কি বুঝায় তা অধিকাংশ মুসলমান জানেন না। যারা জানেন তাদের অধিকাংশই আংশিক জানেনপ্রকৃত অর্থ জানেন না। এই ‘জিহাদ’ শব্দটি নিয়ে কম পানি ঘোলা করা হয়নি আর বর্তমান প্রজন্মের নিকট ‘জিহাদ’ শব্দটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন তারা শুধু মনে করে অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করাটাই হচ্ছে ‘জিহাদ’! অর্থাৎ বর্তমান প্রজন্ম ‘জিহাদ’ শব্দটির ক্ষেত্রে একপ্রকার ঘৃণা হৃদয়ে ধারণ করে বড় হচ্ছে। আর তাদের হৃদয়ে এই ধারণা বদ্ধমূল হওয়ার পিছনে রসদ যোগাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমইসলাম বিদ্বেষীদের লেখা যেখানে কোরআনের আয়াত এবং হাদিস সমূহকে বিকৃত অর্থ করে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। মুসলিম মাত্রই এই বিষয়ে স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার ধারণা থাকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ইনশাল্লাহনিম্নোক্ত লেখাটির মাধ্যমে অনেকেরই জিহাদ বিষয়ক ভুল ধারণাটি ভেঙ্গে যাবে।

জিহাদ কি?
-------------------

জিহাদ আরবি শব্দ। এর অর্থ হল কঠোর পরিশ্রম করা, চেষ্টা করা, সাধনা করা, সংগ্রাম করা। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহর দ্বীনকে (ইসলামকে) বিজয়ী করার লক্ষে এবং একমাত্র আল্লাহকে খুশি করার জন্য কুফরী তথা ইসলাম বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে মুমিনের সকল প্রচেষ্টা (দৈহিক, মানসিক, আর্থিক, জ্ঞানবুদ্ধি) নিয়োজিত করাকে জিহাদ বলে। অন্য অর্থে স্বীয় নফসের বিরুদ্ধে, শয়তানের বিরুদ্ধে, ফাসেকদের বিরুদ্ধে এবং মুশরিক-মুনাফিক-কাফেরদের বিরুদ্ধে জান-মাল ও জবান দিয়ে লড়াই করাকে জিহাদ বলা হয়।

জিহাদের প্রকারভেদ
-----------------------

জিহাদ চার প্রকার: 
১। জিহাদের নফস: প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ।

জিহাদে নফসের আবার চারটি স্তর রয়েছে:
প্রথম স্তর: সত্য কোথায় এবং সঠিক পথ কি তা খুঁজে বের কারা জন্য হৃদয়-মনকে অনুপ্রাণিত করাঅর্থাৎ হকের পরিচয় এবং হিদায়াত লাভের জন্য জ্ঞানের অনুশীলন এবং সাধনার আশ্রয় গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। এ পথ কঠিনএ পথ বন্ধুর। মন সহজে এ দিকে আকৃষ্ট হয় নামনকে এ কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করাই হচ্ছে জিহাদে নফসের প্রথম স্তর। এ স্তর অতিক্রম করতে না পারলে দ্বীনের সৌভাগ্য অর্জনেই মানুষ বঞ্চিত হয় নাপার্থিব সৌভাগ্য লাভও তার পক্ষে সম্ভব হয় না।

দ্বিতীয় স্তর: সঠিক পথের পরিচয় লাভের পর সে পথে চলার জন্য মনকে বাধ্য করা অর্থাৎ ‘ইলমের পর ‘আমলের জন্য মনকে বাধ্য করা। এ পথও অনেকের পক্ষে কঠিন। এজন্য প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়। এ সংগ্রামই হচ্ছে জিহাদে নফসের দ্বিতীয় স্তর।

তৃতীয় স্তর: নিজে সঠিক পথ চিনে সেই পথে চলার সঙ্গে সঙ্গে অপরকেও সে পথ চেনাতে হবে এবং সে পথে চলার আহবান জানাতের হবে। এটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। যে সত্য সাধক এ কাজ সম্পাদনে অবহেলা প্রদর্শন করবে এবং এ কর্তব্য পালনে উদাসীনতা দেখাবে সে সেসব কমবখত- দুর্ভাগাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা সত্যকে গোপন করে থাকে। এর নাম তালিম ও দাওয়াত- সত্য শিক্ষাদান এবং সত্যপথে আহবান। এ কাজও কঠিনএ কাজে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়অনেক পরিশ্রম করতে হয়। এ ত্যাগ স্বীকার এবং পরিশ্রমের জন্য মনকে প্রস্তুত করা জিহাদে নফসের তৃতীয় স্তর।

চতুর্থ এবং শেষ স্তর: মানুষকে সত্যপথে আহবান জানাতে এবং তাদের সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখতে গিয়ে অনেক বিপদাপদের সম্মুখীন হতে হয়অনেক দুঃখ-কষ্ট ও মুসিবতে পরতে হতে হয়বহু পরীক্ষায় নিপতিত হতে হয়। সে অবস্থায় বিপদ ও ও মুসিবতে ধৈর্য ধারণ করতে হয়পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। শুধু তাই নয়দুঃখ-কষ্টে ধৈর্যের তাওফিক লাভ এবং হৃদয়ের দৃঢ়তা আর সংকল্পের অটলতার জন্য আল্লাহর শুকরিয়াও জানাতে হয়। হৃদয়-মন-দেহকে এরূপ দৃঢ় করে গড়ে তোলার এবং বর্ণিত অবস্থাতেও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য মানস প্রবণতা সৃষ্টি জিহাদে নফসের চতুর্থ এবং শেষ স্তর। যে ব্যক্তি জিহাদে নফসের এ চারটি স্তরই সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করতে সক্ষমসেই প্রকৃত ভাগ্যবানকারণ তখন সে আল্লাহর প্রতি নিবেদিত-প্রাণ সত্যিকারের অনুসারী।

২। জিহাদে শয়তান: শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ।

জিহাদে শয়তান
শয়তানের সাথে জিহাদের দুইটি পর্যায়। শয়তান মানুষের ঈমানের উপর সন্দেহ এবং দ্বিধা-দ্বন্দ্বের বীজ বুনে দেয়। এ ব্যাপারে তাকে মোটেই আমল না দেয়াই হচ্ছে জিহাদে শয়তানের প্রথম পর্যায়। আর দ্বিতীয় পর্যায় হচ্ছে শয়তানের তরফ থেকে যেসব অনভিপ্রেত ইচ্ছা এবং গর্হিত বাসনা মনের ভিতর নিক্ষেপ করা হয় এবং যার প্রতি হৃদয়ের কোণে অনুরাগ সৃষ্টি হয় তা প্রতিহত ও দূরীভূত করার জন্য যুদ্ধ-জিহাদ-সাধনা ও সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। প্রথম পর্যায়ের জিহাদে সাফল্য লাভে হৃদয়ে সৃষ্টি হয় ইয়াকীন বা প্রত্যয়। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের সাফল্যে মনে দৃঢ়মূল হয় সবর তথা অটল ধৈর্য।

এ প্রত্যয়-দৃঢ় ধৈর্যশীল ব্যক্তিগণই সমাজ ও জাতির নেতৃত্ব করার অধিকার লাভ তথা মানব সমাজতে হিদায়েতের পথে পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করে থাকে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:

আমি তাদের মধ্য থেকে ইমাম বা নেতা বানিয়ে দিয়েছি সে সব লোককে যারা (লোকদের ) সঠিক পথে পরিচালনা করে থাকে আমারই হুকুম মুতাবেকতারা এ যোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হয় তাদের ধৈর্য ও দৃঢ়তার গুণে এবং আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি অটল আস্থার কল্যাণে। (সূরা আস-সাজদাহ ৩২:২৪)

এথেকে এ কথা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যেনেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব কেবলমাত্র সবর ও ইয়াকীন- ধৈর্য ও দৃঢ়তা এবং আল্লাহর প্রতি প্রত্যয় ও নির্ভরতার কল্যাণেই অর্জিত হয়ে থাকে। ‘সবর’ বা ধৈর্য হৃদয়ের অশুভ বাসনা এবং গর্হিত কামনাকে প্রতিরোধ করে আর ‘ইয়াকীন’ বা প্রত্যয় শোবা-সন্দেহদ্বিধা-দ্বন্দ্ব থেকে হৃদয়-মনকে পাক-পবিত্র ও নিষ্কলুষ করে তোলে।

এখানে এ কথা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যেনেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব কেবলমাত্র সবর ও ইয়াকীন- ধৈর্য ও দৃঢ়তা এবং আল্লাহর প্রতি প্রত্যয় ও নির্ভরতার কল্যাণেই অর্জিত হয়ে থাকে। ‘সবর’ বা ধৈর্য হৃদয়ের অশুভ বাসনা এবং গর্হিত কামনাকে প্রতিরোধ করে আর ‘ইয়াকীন’ বা প্রত্যয় শোবা-সন্দেহদ্বিধা-দ্বন্দ্ব থেকে হৃদয়-মনকে পাক-পবিত্র ও নিষ্কলুষ করে তোলে।

৩। জিহাদে কুফফারঃ কাফিরের বিরুদ্ধে জিহাদ।
৪। জিহাদে মুনাফিকীনঃ মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ। 

জিহাদে মুনাফিকীন ও জিহাদে কুফফার
মুনাফিক তথা কপট শ্রেণী এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদের স্তর চারটি। এর প্রথম স্তরে অন্তর দিয়েদ্বিতীয় স্তরে জবান দিয়েকথার মাধ্যমেউপদেশ দিয়েনসিহত করে বা তিরস্কার করেতৃতীয় স্তরে অর্থ ব্যয় করে এবং চতুর্থ স্তরে জান ও প্রাণ দিয়ে অর্থাৎ প্রকাশ্যে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে জিহাদ করতে হয়। হাদিসে বলা হয়েছে,
যে ব্যক্তি জিহাদ না করেকমপক্ষে জিহাদের বাসনা হৃদয়ে পোষণ না করে মৃত্যুবরণ করে তার মরণ হবে আংশিক কপটের মৃত্যু।

 জিহাদ হিজরতের দ্বারা পরিপূর্ণতা লাভ করে আর হিজরত এবং জিহাদের সমবায়ে ঈমান হয়ে উঠে বিশুদ্ধতরপূর্ণতর।


জিহাদকে কেন বৈধতা দেয়া হল?

-----------------------------------

জিহাদ ও যুদ্ধের পার্থক্য: যুদ্ধ আসলে ভালো কাজ নয়যুদ্ধ-বিগ্রহ দাংগা-হাংগামা মানুষের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনে না। তবেবিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে এটার দ্বারস্থ হতে হয়। যখন যুদ্ধ ছাড়া সমাজকে শান্তিপূর্ণ রাখার আর কোন পথ অবশিষ্ট থাকেনা তখনই বাধ্য হয়ে জিহাদের চূড়ান্ত স্তর যুদ্ধের মত কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। ঠিক তেমনি আল্লাহ তায়ালা জিহাদকে পবিত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে বৈধ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
• আর এ কাফেরদের সাথে এমন যুদ্ধ করো যেন গোমরাহী ও বিশৃঙ্খলা নির্মূল হয়ে যায় এবং দ্বীন পুরোপুরি আল্লাহ তায়ালার জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তারপর যদি তারা ফিতনা থেকে বিরত হয় তাহলে আল্লাহই তাদের কার্যকলাপ দেখবেন। (সুরা আনফাল: ৩৯)
অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন:
• তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকো যতক্ষণ না ফিতনা নির্মূল হয়ে যায় এবং দীন একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয় তাহলে জেনে রাখ জালেম তথা অত্যাচারী ছাড়া আর করোর ওপর হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়। (সুরা বাকারা: ১৯৩)

জিহাদ কখন ফরজ তথা আবশ্যক হয়?
----------------------

অধিকাংশ ইসলামিক স্কলারের মতে নিম্নের কয়েকটি অবস্থায় জিহাদ ফরজ হয়।
প্রথমত: যখন দুটি দল (মুসলিম ও অমুসলিম) পরস্পর মুখোমুখি হয়। যুদ্ধ ছাড়া আর কোন শান্তিপূর্ণ পথ খোলা থাকে না তখন উপস্থিত ব্যক্তিদের সেখান থেকে পলায়ন করা বৈধ নয়। তখন উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হয়ে যায় দৃঢ়পদ ও অবিচল থাকা। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
• হে ঈমানদারগণ! যখন কোন দলের সাথে তোমাদের মোকাবিলা হয়,তোমরা দৃঢ়পদ থাকো এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো বেশী বেশী করে। আশা করা যায়,এতে তোমরা সাফল্য অর্জন করতে পারবে। আর আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না,অন্যথায় তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা দেখা দেবে এবং তোমাদের প্রতিপত্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। অতএবতোমরা ধৈর্যধারণের পন্থা অবলম্বন কর,নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সুরা আনফাল: ৪৫-৪৬)
দ্বিতীয়ত: যখন শত্রুবাহিনী কোন মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর আকস্মিক আক্রমণ করে তখন নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের উপর আবশ্যক হয়ে যাবে তাদের গতিরোধ করা। তারা যদি সক্ষম না হয় তাহলেতাদের পার্শ্ববর্তী লোকদের উপর পর্যায়ক্রমে জিহাদ ফরজ হবে।
তৃতীয়ত: রাষ্ট্রপ্রধান যখন কোন সম্প্রদায়কে জিহাদে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন তখন জিহাদে যাওয়া আবশ্যক হবে। তবেকারও কোন ওজর থাকলে ভিন্ন কথা।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:

• হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কি হলো,যখনই তোমাদের আল্লাহর পথে জিহাদে বের হতে বলা হয়তখনি তোমরা মাটি কামড়ে পড়ে থাক?তোমরা কি আখেরাতের মোকাবিলায় দুনিয়ার জীবনকে বেশী পছন্দ করে নিয়েছ?যদি তাই হয় তাহলে তোমরা মনে রেখ,দুনিয়ার জীবনের এমন সাজ সরঞ্জাম আখেরাতে খুবই সামান্য বলে প্রমাণিত হবে। তোমরা যদি না বের হও তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তোমাদের জায়গায় আরেকটি দলকে নিয়ে আসবেন,তখন তোমরা আল্লাহ তায়ালার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তিনি সব বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান (সুরা তাওবা: ৩৮-৩৯)


অপ্রিয় সত্য

অপ্রিয় সত্য

সিকিমের স্বাধীনতা গ্রাসের ভারতীয় পদ্ধতি। বর্তমান প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ। সহায়ক শক্তিটিকে আপনারা একটু মাথা খাটালেই চিনতে পারবেন। আর এবারের লেন্দুপ দর্জ র ভূমিকায়, আমাদের দেশের প্রভাবশালী এক পরিবার। চলুন এক নি:শ্বাসে পড়ে ফেলি আলম মাসুমের প্রবন্ধ- সিকিমের স্বাধীনতার সূর্যাস্ত ও একজন লেন্দুপ দর্জি৬ এপ্রিল ১৯৭৫ সাল। সিকিমের সকালটা ছিল অন্য রকম। পাঁচ হাজার ভারতীয় সৈন্য নিয়ে মিলিটারি কনভয় ঢুকে পড়ে রাজধানী গ্যাংটকে। রোদেলা দিনের শুরুতে এই পাহাড়ি শহরে সে দিনও ফুটেছিল রডোডেনড্রনসহ নানা বর্ণের ফুল। রাজা পালডেন ও সিকিম বাসীর জন্য সেটাই ছিল স্বাধীন রাজ্যের শেষ দিবস। এটা তারা বুঝতে পারেন যখন ভারতীয় সৈন্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে রাজপ্রাসাদ ঘেরাও করে মেশিনগান দিয়ে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ শুরু করে। তারপর সিকিমের পতাকা নামিয়ে তিন রঙা ভারতীয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন। কংগ্রেস নেত্রী ইন্দিরা গান্ধী তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সিকিমকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতা লেন্দুপ দর্জি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ভারতের হাতে তুলে দেয়ার জন্য তিনি এক অভিশপ্ত জীবন বয়ে বেড়িয়েছেন। সিকিমে তার ঠাঁই হয়নি। রাজনীতি থেকে তাকে বিদায় করা হয়। শেষজীবন কাটে প্রতিবেশী দার্জিলিংয়ের (পশ্চিমবঙ্গ) কালিমপাং শহরে। একাকী, নিঃসঙ্গ, নিন্দিত ও ভীত সন্ত্রস্ত এক জীবনযাপন শেষে লেন্দুপ দর্জি নীরবে মৃত্যুবরণ করেন। নাটের গুরুরা পেছন থেকে সব কলকাঠি নাড়েন। নিজের দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকদের নাম কখনো হয় মীরজাফর, কখনো লেন্দুপ দর্জি, কখনো বা অন্য কিছু। দেশ ও কালের তফাৎ হয় কিন্তু ইতিহাসের অনিবার্য শাস্তি এদের পেতেই হয়। সিকিম ভারতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য। আয়তন ৭,০৯৬ বর্গ কিলোমিটার।

Posted by Unknown on 09:06 with

অপ্রিয় সত্য


অপ্রিয় সত্য


১. শেখ মুজিবকে হত্যার পর বাকশাল নেতা মোশতাক রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন। গঠন করেন মন্ত্রীসভা। শেখ মুজিবের মন্ত্রীসভার প্রায় সকলেই মোশতাকের মন্ত্রীসভার সভায় শপথ নেন।
২. মোশতাক সারাদেশে সামরিক আইন জারি করেন। ঐ সময় সেনাপ্রধান ছিলেন শফিউল্লাহ।
৩. শহীদ জিয়া সেই সময় ছিলেন সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ।
৪. শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের পরে মোশতাকের মন্ত্রীসভার শপথ অনুষ্ঠানে যাননি জিয়াউর রহমান। বিজয়ীর বেশে গিয়েছিল তাহের-ইনু বাহিনী এবং তৎকালীন মুজিব বিরোধী নেতারা।
৫. শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর আরও কমপক্ষে দশ দিন, অর্থাৎ ২৪শে আগস্ট পর্যন্ত জেনারেল শফিউল্লাহ ছিলেন সেনা প্রধান।
৬. রাষ্ট্রদূত হিসাবে সরকারি চাকুরী কনফার্ম করার পর সেনাপ্রধানের পদ ছাড়েন শফিউল্লাহ। এরপর যথা নিয়মে ডেপুটি চীফ অব স্টাফ থেকে প্রমোশন পেয়ে ২৫শে আগস্ট সেনাপ্রধান হন জিয়াউর রহমান।
৭. সেনাপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পর রক্ষী বাহিনীর প্রভাবমুক্ত একটি শক্তিশালী পেশাদার ও সেনাবাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন শহীদ জিয়া।
৮. জিয়াকে মেনে নিতে পারেননি ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ। তিনি ভেতরে ভেতরে জিয়াউর রহমানকে সরানোর চক্রান্ত শুরু করেন।
৯. চক্রান্তের অংশ হিসেবে খালেদ মোশারফ ১৯৭৫ সালের ২রা নভেম্বর সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করেন।
১০. ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোশতাকের অনুমোদন নিয়ে মেজর জেনারেল হিসেবে নিজেই নিজের প্রমোশন নেন এবং এরপর প্রশাসন চলে খালেদ মোশারফের ইশারায়।
১১. ১৯৭৫ সালের ৫ই নভেম্বর রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মোশতাক। তার আগে মোশতাক এবং খালেদ মোশারফ বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব দেন ৬ই নভেম্বর। বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি। শেখ মুজিব পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসেন ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী। এর দুই দিন পর ১২ই জানুয়ারি সায়েমকে প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়।
১২. ১৫ই আগস্ট থেকে মোশতাক-শফিউল্লাহর জারী করা সামরিক আইন বহাল থাকায় রাষ্ট্রপতি সায়েম একাধারে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের ও দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য, ৭ই নভেম্বর সংঘটিত হয় সিপাহী- জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব। শহীদ জিয়াকে বের করে আনা হয় বন্দীদশা থেকে।
১৩. ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর জেলের মধ্যে সংঘটিত হয় ৪ নেতা হত্যাকাণ্ড। আবার ৬ই নভেম্বর পাল্টা ক্যুতে নিহত হন খালেদ মোশারফ। ১৯৭৭ সালের ২০শে এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি সায়েম।
১৪. এ সময়কালে জিয়া ছিলেন সেনা প্রধান এবং উপ- প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক।
১৫. ১৯৭৭ সালের ২০শে এপ্রিল প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিচারপতি সায়েম। এরপর প্রেসিডেন্ট এবং উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
১৬. ১৯৭৮ সালের ৩রা জুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার গৌরব অর্জন করেন প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়া। ঐ নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলেন ১০ জন।
১৭. ১৯৭৯ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি ২৬০টি এবং আওয়ামীলীগ ৩৯টি আসন লাভ করে। নির্বাচনে মোট ২৯টি দল অংশ নেয়।
১৮. ১৯৭৮ সালের মে মাসে শহীদ জিয়া ১৯ দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন। ১৯. এই কর্মসূচীর উপর জনগণের আস্থা আছে কিনা সেটি যাচাইয়ের জন্য ১৯৭৮ সালের ৩০শে মে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
২০. জিয়াউর রহমান সামরিক আইন জারি করেননি। ১৫ই আগস্ট সামরিক আইন জারী করেন মোশতাক। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বরং তিনি সামরিক আইন প্রত্যাহার করেন।
২১. জিয়াউর রহমান ইনডিমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেননি। ইনডিমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল মোশতাক সরকার ১৯৭৫ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর।
২২. জিয়াউর রহমান দালাল আইন বাতিল করেন নি। ১৯৭৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর দালাল আইন বাতিল করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, যে কিনা বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলো শেখ মুজিব কর্তৃক।


মদিনার সনদ

Posted by Unknown on 04:24 with

মদিনার সনদ

অপ্রিয় সত্য
অপ্রিয় সত্য


১) সনদপত্রে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়সমূহ ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে একটি সাধারণ জাতি গঠন করবে।
২)হযরত মুহাম্মদ (স) ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান থাকবেন।
৩) কোন সম্প্রদায় গোপনে কুরাইশদের সাথে কোন প্রকার সন্ধি করতে পারব না কিংবা মদিনা বা মদীনাবাসীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে কুরাইশদের কোনরুপ সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারবে না।
৪) মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদী, পৌত্তলিক ও অন্যান্য সম্প্রদায় ধর্মীয় ব্যাপারে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে। কেউ কারো ধর্মীয় কাজে কোন রকম হস্তক্ষেপ করত পারবে না।
৫) মদিনার উপর যে কোন বহিরাক্রমণ কে রাষ্ট্রের জন্য বিপদ বলে গণ্য করতে হবে। এবং সেই আক্রমণ কে প্রতিরোধ করার জন্য সকল সম্প্রদায়কে এক জোট হয়ে অগ্রসর হতে হবে।
৬) রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।
৭) অসহায় ও দুর্বলকে সর্বাবস্থায় সাহায্য ও রক্ষা করতে হবে।
৮) সকল প্রকার রক্তক্ষয়, হত্যা ও বলাৎকার নিষিদ্ধ করতে হবে এবং মদিনাকে পবিত্র নগরী বলে ঘোষণা করা হবে।
৯) কোন লোক ব্যক্তিগত অপরাধ করলে তা ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবেই বিচার করা হবে। তজ্জন্য অপরাধীর সম্প্রদায় কে দায়ী করা যাবে না।
১০) মুসলমান, ইহুদী ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরা পরস্পর বন্ধুসুলভ আচরণ করবে।
১১) রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তির অধিকার থাকবে রাষ্ট্রপ্রধানের এবং তিনি হবেন সর্বোচ্চ বিচারালয়ের সর্বোচ্চ বিচারক।
১২) মুহাম্মদ (সা:) এর অনুমতি ব্যতীত মদীনাবাসীগণ কারও বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে না।

১৩) মুসলমানদের কেউ যদি অন্যায় কিংবা বিশ্বাসঘাতকতা করে তবে সবাই মিলে তার বিরুদ্ধে যথোচিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নিজ সন্তান বা আত্নীয় হলেও এ ব্যাপারে তাকে ক্ষমা করা যাবে না। মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশের সংবিধানে যদি ধর্মনিরপেক্ষতা আদর্শ উল্লেখ নাও থাকে তাহলেও  সেই দেশে সংখ্যালঘু জন্য কোন ভয় নাই, কারণ আমরা ধর্মী সহিষ্ণুতায় বিশ্বাসী।

অপ্রিয় সত্য


অপ্রিয় সত্য
অপ্রিয় সত্য
আমার লাশ শহীদ মিনারে যাবে না!
আমরা সবাই হাঁটছিলাম হুমায়ুন আহমেদের নুহাশ পল্লীর সবুজ চত্বরে। দিনটি ছিল শুক্রবার আর তারিখ ছিল ১৭ই অক্টোবর ২০১৪। সময় তখন সকাল ১১টা। নুহাশ পল্লীর ম্যানেজার এবং কর্মচারীরা হয়তো আগে থেকেই জানতেন যে, তিনি এবং আমি আসছি। আর তাই সেখানে পৌঁছা মাত্র তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা আমাকে আপ্লুত করে। হুমায়ুন আহমেদ বেঁচে থাকতে বহুবার চেষ্টা করেছি সেখানে যেতে- কিন্তু হয়ে ওঠেনি। তার শাশুড়ি তহুরা আলী আমার ঘনিষ্ঠজন হবার কারণে পারিবারিক পরিবেশে তার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ ছিল। সময় যখন পেলাম-তখন সবকিছু ছিল কেবল হুমায়ুন আহমেদ ছাড়া। ঘটনার দিন আমাদের মুল পরিকল্পনা ছিল গাজীপুরের হোতা পাড়ায় গিভেন্সী গ্রপ পরিচালিত বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনের। আমি তো হোমরা চোমরা গোছের কেউ নয়-৩/৪টি পত্রিকায় রাজনৈতিক কলাম লিখি - আর একটি পত্রিকায় লিখি দুইটি ধারাবাহিক ঐতিহাসিক উপন্যাস। একটির নাম মোঘল হেরেমের দুনিয়া কাঁপানো প্রেম এবং অন্যটি হল; আরব্য রজনীর মহানায়ক। এর বাইরে টেলিভিশন টক শো, সভা সমিতি সেমিনার এবং ওয়াজ মাহফিলে বক্তা হিসেবে টুকটাক অংশ গ্রহণ। এই সুবাদে দেশের কিছু লোকজন হয়তো আমাকে চিনেন। কিন্তু তারা যে আসলে আমাকে কিভাবে চিনেন সে ব্যাপারে আমার নিজেরই বহুত সংশয় আছে। কারণ আমার লেখা এবং বক্তৃতার সংগে যেমন সহমত পোষণ করেন এমন লোকজন আছেন তেমনি অপছন্দকারীর সংখ্যাও নেহায়েৎ কম নয়। ফলে নিজেকে নিয়ে আমার আত্মতৃপ্তি বা গর্ব অনুভব করার কোন সুযোগ আমি পাইনি। এমন অবস্থায় রিনা পারভিন নামের এক আইনজীবী আমাকে একদিন ফোন দিলেন-

রিনার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিলো বিগত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের সময়। সে তখন গাজীপুর সদর উপজেলার নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। পেশায় জেলা বারের একজন আইনজীবী। এক সময় ব্যারিস্টার রফিকুল হকের সহকারী ছিল। বর্তমানে সে গিভেন্সী গ্রপের লিগ্যাল এডভাইজার। ফোন করে রিনা জানালো যে, গিভেন্সী গ্রপের মালিক খতিব মুকুল সাহেব আমাকে একটু দাওয়াত দিতে চান তার বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রটি পরিদর্শন করার জন্য। আমি মুকুল সাহেব, গিভেন্সী গ্রপকে যতটা না চিনতাম-তার চেয়েও বেশী চিনতাম তার বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রটি। কারণ এটি বাংলাদেশের একটি অনন্য সাধারণ দাতব্য প্রতিষ্ঠান যা কিনা স্বয়ং মাদার তেরেসা এসে উদ্বোধন করে গেছেন। প্রায় ৪০০ বিঘা জায়গার ওপর গড়ে ওঠা বিশাল একটি মহতী প্রতিষ্ঠানে ৩০০ শত বয়স্ক নারী পুরুষ সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা, পোশাকাদিসহ সবকিছু পাচ্ছেন সেই ১৯৮৭ সাল থেকে। মুকুল সাহেব ফোন করে দাওয়াত দিলেন। তিনি জানালেন যে, ব্যারিস্টার রফিকুল হক এবং আমি নাকি তার পছন্দের অতীব পছন্দের লোক। তার ইচ্ছা আমরা যেন তার প্রতিষ্ঠানটি একটু ঘুরে যাই এবং তার সঙ্গে দুপুরে দুটো ডাল ভাত খাই। আমি বিনা বাক্যে রাজি হয়ে গেলাম। একটি ভালো কর্ম দেখার জন্য যাচ্ছি বিধায় স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে গেলাম। উত্তরা পৌঁছে ব্যারিস্টার রফিক এবং রিনার সঙ্গে একত্র হলাম। জনাব হকের সঙ্গে আমার পরিচয় বহু দিনের কিন্তু আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়েছে আমার কারাবাসের পর। তিনি যে আমায় এতো ভালোবাসেন তা আমি ইতিপূর্বে জানতাম না। তিনি দেশের একজন সিনিয়র আইনজীবী। গত ১/১১র সময়ে তাঁর সাহস, ব্যক্তিত্ব এবং সফলতা তাঁকে দেশবাসীর নিকট কিংবদন্তীতে পরিণত করেছে। তাঁর সঙ্গে ইতিপূর্বে কয়েকটি টকশো, সেমিনার, টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দূতাবাসের অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিলো। সেখানে কথা হতো এবং প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে তিনি মতামত রাখতেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। জেল থেকে বেরুনোর পর একটি দূতাবাসের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে গিয়ে ব্যরিস্টার হকের কথা শুনে আমার চোখ অশ্রুসজল হয়ে গেলো। আমি দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে- আর তিনি গল্প করছিলেন অদূরে বসে তার মানের কয়েকজন সিনিয়র সিটিজেনের সঙ্গে। আমি ভাবছিলাম একটু এগিয়ে গিয়ে তাঁকে সালাম দিয়ে আসব কিনা! আমার ভাবনার মাঝে তাঁর সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় হতেই তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে আমার নিকট চলে এলেন। আমার কাঁধে হাত রেখে বললেন - বাবা কেমন আছ! তুমি যখন জেলে গিয়েছিলে তখন আমি দেশের বাইরে ছিলাম। ফিরে আসার পর সব কিছু শুনে খুব খারাপ লাগলো। একদিন জেল খানাতেও গিয়েছিলাম। তোমার সঙ্গে দেখা না করেই চলে এসেছি। কারাগারের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে ভেবেছি- কিভাবে এবং কোন আইনে রনিকে ভেতরে ঢোকানো হল। তোমার জন্য মনে হয় নতুন করে আইন পড়তে হবে. . . .. . ।ঐ দিনের পর থেকে তিনি আমার হৃদয়ে আসন নিলেন একজন সম্মানিত পিতা হিসেবে। উত্তরাতে রিনাদের বাসার নীচতলায় আমাদের দেখা হল। তিনি বললেন - যদি সময় থাকে তবে চলো একটু নুহাশ পল্লী দেখে আসি। আমরা সানন্দে রাজি হয়ে গেলাম। উত্তরা থেকে যাত্রা করার দেড় ঘণ্টা পর আমরা প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদের নুহাশ পল্লীতে গিয়ে পৌঁছালাম। প্রায় ৪০ বিঘা জায়গা নিয়ে অতীব যতন সহকারে লেখক তাঁর নির্জন এবং নিভৃত পল্লীটি গড়ে তুলেছেন। সেখানকার সব কিছুতেই হুমায়ুন আহমেদের ব্যক্তিগত রুচি, আভিজাত্য, পছন্দ, মেধাও মননশীলতার ছাপ রয়েছে। হুমায়ুন কি করতেন-কখন করতেন, কিভাবে করতেন তা যেন সব নুহাশ পল্লীর সবুজ চত্বর, বৃক্ষরাজি এবং পাক-পাখালী- আগ বাড়িয়ে দর্শনার্থীদের কানে কানে বলে দিচ্ছিল। এখানকার প্রতি ইঞ্চি ভূমি, প্রতিটি উদ্ভিদ, পুকুর, ঘরবাড়ি, স্থাপত্য এবং পায়ে হাঁটা সরু পথের গতি প্রকৃতির মধ্যে মানুষ হুমায়ুনকে খুঁজে বেড়ায়- আর সবচেয়ে বেশী খুঁজে তার প্রেয়সী মেহের আফরোজ শাওনকে।

আমরা যখন নুহাশ পল্লীর ভেতর দিয়ে হাঁটছিলাম তখন আরও ১০/১২টি পরিবারকে দেখলাম ঘোরা ফেরা করতে। স্থানীয় কিছু যুবক যুবতী, ছাত্র-ছাত্রী মিলিয়ে প্রায় শখানেক লোক তো হবেই। তাদের অনেকে আবার বাড়ী থেকে খাবার নিয়ে এসেছিলো। ঘোরা ঘুরির পর কোন এক গাছের নীচে বসে সেই খাবার খেতে খেতে উৎসুক নয়নে আশে পাশে তাকাচ্ছিল আর ভাবছিল- হুমায়ুন তো মারা গেছেন। কিন্তু তার প্রেয়সী কই! তিনি কেন সব সময় নুহাশ পল্লীতে থেকে হুমায়ুন ভক্তদের দেখা দেন না! ব্যারিস্টার রফিকুল হক নুহাশ পল্লীতে এসে ভারী মজা পেলেন। তিনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সেখানকার ম্যানেজারকে নানা কথা জিজ্ঞাসা করতে করতে পুকুর পাড়ে এসে উপস্থিত হলেন। ম্যানেজার বললেন- ঐ যে ঘরটি দেখছেন! ওখানে বসে স্যার গভীর রাতে ভূত দেখতেন। ম্যানেজারের কথা শুনে তিনি তো ভারী অবাক হয়ে গেলেন। আমি হুমায়ুন আহমেদ, তার পারিবারিক জীবন, চিন্তা চেতনা এবং ভূত সম্পর্কে আমার জানা নানা কল্প কাহিনী বলে তাকে আনন্দ দেবার চেষ্টা করলাম।

নুহাশ পল্লীর যে ঘরে বসে হুমায়ুন আহমেদ লিখতেন আমাদেরকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হল। আমরা মেঝেতে বিছানো কার্পেটের ওপর আয়েশি ঢংয়ে বসে এমন একটি আড্ডা জমানোর চেষ্টা করলাম ঠিক যেমনটি হয়তো হুমায়ুন আহমেদ জীবৎকালে করতেন। নানা রং রসের কথা হল। হাসি তমসা, খুনসুটির পর দেশী পেঁপে, সবজী, মাংস, লুচি এবং চা পর্বের মাধ্যমে নাস্তার কাজটি সেরে রওয়ানা হলাম গিভেন্সী গ্রপের বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের দিকে। যেতে যেতে রিনা বলতে আরম্ভ করলো নুহাশ পল্লীর প্রথম দিককার কাহিনী। সে ঐ গ্রামের মেয়ে বিধায় সব কিছু ছিল তার নখদর্পণে। হুমায়ুন আহমেদের মাধ্যমেই বলতে এলাকাটির আবাদ হয়। তিনি যখন প্রথম জমি কিনেছিলেন তখন হয়তো প্রতি বিঘার দাম ছিল ১০/১২ হাজার টাকা। সর্বশেষে লাখ টাকা দরে কিনেছিলেন। আর এখন সেই জমির মূল্য প্রতি বিঘা কমপক্ষে ৫০ লাখ। নুহাশ পল্লীর কাজ শুরু হলে ঢাকার অতিথিদেরকে অনেকখানি পথ গরুর গাড়ীতে করে আসতে হতো। গ্রামে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ এবং গরুর গাড়ি ভিন্ন অন্যকোন যানবাহনই ছিল না। ফলে ঐ এলাকার আপামর জনগণ তাদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য হুমায়ুন আহমেদকে সব সময় স্মরণ করে থাকে। রিনার কথা শুনতে শুনতে আমরা গিভেন্সী গ্রপের বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের মূল ফটকে উপস্থিত হলাম। সুবিশাল গেইট, অনেক নিরাপত্তা রক্ষী এবং নিয়ম কানুনের বেশ কড়াকড়ি লক্ষ করলাম। আমাদের পরিচয় জানার পর আমাদেরকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হল। গাড়ী চালিয়ে অনেকখানি পথ চলার পর আমরা পুনর্বাসন কেন্দ্রের অফিসের সামনে পৌঁছলাম। জনাব মুকুল তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আমাদেরকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। আমরা গাড়ী থেকে নামলাম এবং মুকুল সাহেবের অফিসে গিয়ে বসলাম। পূর্বেই বলেছি বিরাট ব্যাপার- এলাহি কাণ্ড। প্রায় ৪০০ বিঘা জায়গার ওপর গড়ে তোলা পুনর্বাসন কেন্দ্রটিতে ৩০০ জন বয়স্ক নারী পুরুষের বাস। কোন দেশী বিদেশী সাহায্য নেই। চলছে একক দানে। আশ্রয় প্রাপ্ত নারী পুরুষের জীবনের সকল চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তাদের মৃত্যুর পর তাদের ওছিয়ত অনুযায়ী দাফন কাফনের ব্যবস্থা করা হয়। প্রকল্পের ভেতরেই রয়েছে নিজস্ব কবরস্থান। পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে- খামারে হাঁস-মুরগীসহ গবাদি পশু। উৎপাদিত হচ্ছে ধান, গম, তরি তরকারী এবং ফলমূল। আশ্রয় প্রাপ্তদের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, বিনোদন, শিক্ষা-দীক্ষা, শরীর চর্চা, ধর্ম-কর্ম-সকল কিছুরই ব্যবস্থা করা হচ্ছে সুচারুভাবে। আমরা পুরো প্রকল্প ঘুরে দেখতে দেখতে এসব বিষয় অবগত হলাম এবং একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ঔদার্য দেখে যারপর নাই মুগ্ধ হলাম। আমরা লক্ষ করলাম যে, সকল বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা গভীর আবেগ সহকারে মুকুল সাহেবকে বাবা বলে সম্বোধন করেন। আমাদের মতো আরেক দল মধ্য বয়সী ভদ্র মহিলারাও সেদিন পুনর্বাসন কেন্দ্রটি দেখতে গিয়েছিলেন। তারা সবাই রাজধানীর অভিজাত এলাকা বারিধারার বাসিন্দা এবং একটি সামাজিক সংস্থার সদস্য। তাদের সংখ্যাও ছিল প্রায় ২০/২২ জন। পরিদর্শন শেষে আমরা সবাই এক রুমে বসে প্রকল্পটির আদি অন্ত নিয়ে আলোচনা শুরু করলাম। মুকুল সাহেব জানালেন - কিভাবে তিনি কত কষ্ট করে শুরুটা করেছিলেন সেই ১৯৮৭ সালে যখন তিনি সবে ধনবান হয়েছেন কিন্তু তখনো পর্যন্ত বিয়ে থা করেননি। বহু সম্মানজনক মধুর স্মৃতির পাশাপাশি গুটি কয়েক বিব্রতকর পরিস্থিতির কথাও অকপটে বললেন। বললেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। নানা জনের নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন তিনি। একজন বললেন আচ্ছা এখানে আশ্রয়প্রাপ্তদের বেশির ভাগ মহিলা কেন। তিনি যেইনা বলতে আরম্ভ করলেন যে, আমাদের সমাজটা পুরুষ নিয়ন্ত্রিত ওমনি তার রসিক এবং বিদুষী স্ত্রী দাঁড়িয়ে অবজেকশন দিয়ে বসলেন। মিসেস মুকুল বললেন- আমাদের সমাজ কোন মতেই পুরুষ নিয়ন্ত্রিত নয়- গত ২৪টি বছর আমাদের রাষ্ট্র নারী কর্তৃক শাসিত হচ্ছে। আমাদের নারী শাসকদের সামনে কোন পুরুষই মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রাখে না। এ কথা বলেই তিনি অভিনয় করে দেখিয়ে দিলেন বেগম খালেদা জিয়া কিংবা শেখ হাসিনার রুমে ঢোকার পূর্বে একজন পুরুষ কিভাবে হাঁটে এবং রুমে ঢোকার পর তার সামনে যেতে স্বল্পতম দূরত্বটুকু অতিক্রম করতে গিয়ে কিভাবে হাঁটে। আমরা সবাই হো হো করে হেসে উঠলাম। আলোচনা চলে গেলো রাজনীতির ময়দানে। জনাব মুকুল বেকার হয়ে পড়লেন আর আমি হলাম নানা জনের নানা প্রশ্নের উত্তর দাতা। ঘটনার দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল প্রয়াত অধ্যাপক ডঃ পিয়াস করিমের লাশ ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য নেয়া এবং প্রতিপক্ষ কর্তৃক বাধা দেয়া প্রসঙ্গে। পিয়াস করিমের পরিচিতি মূলত টেলিভিশনের টকশোর কল্যাণে। আর ঐ ক্ষেত্রে অল্প কয়েকজন আলোচিত জনের মধ্যে তারা আমাকেও মনোনীত করলেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমার মন্তব্য জানতে চাইলেন। আমি কোন উত্তর না দিয়ে ব্যারিস্টার রফিকুল হকের দিকে তাকালাম। তিনি তার স্বভাব সুলভ হাস্যরসে নিম্নের জবাবটি দিলেন এখানে উপস্থিত সকলের মধ্যে আমিই বয়োবৃদ্ধ। ফলে মৃত ব্যক্তির লাশ নিয়ে কথা বলার অধিকার আমারই সবচেয়ে বেশি। যারা পিয়াস করিমের লাশ শহিদ মিনারে নিয়ে সম্মান দেখানোর জন্য জিদ করেছেন এবং যারা বাধা দিয়েছেন তাদের উভয় পক্ষের নিকট একটি প্রশ্ন করা যেতে পারে- কেন তারা ওখানে লাশ নিতে চাচ্ছেন এবং কেনই বা বাধা দেয়া হচ্ছে। পিয়াস করিম কি ওছিয়ত করে গিয়েছিলেন যে, আমার লাশটি শহীদ মিনারে নিয়ে যেও! আবার যারা বাধা দিচ্ছেন তারা কি বলতে পারবেন যে, শহীদ মিনার তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বা পারিবারিক সম্পত্তি! এসব বিতর্ক এবং গণ্ডগোলের পর কোন ভদ্র লোকের লাশ হয়তো আগামী দিনে শহীদ মিনারে নেয়া হবে না। অনেকে মৃত্যুর পূর্বে পরিবার পরিজনকে বলে যাবে - আমার লাশ যেন ওখানে নেয়া না হয়।একজন ভদ্র মহিলা প্রশ্ন করলেন- স্যার আপনি তো সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি! আপনার ক্ষেত্রে কি হবে। তিনি বললেন -আমার লাশ শহীদ মিনারে যাবেনা। বায়তুল মোকারÍমে জানাজার পর সোজা আমার গ্রামের বাড়ীতে। আমার প্রয়াত স্ত্রীর পাশে অনেক আগেই কবর খুঁড়ে রেখেছি। সব কিছু ঠিকঠাক। মৃত ব্যক্তির নাম, পিতার নাম, জন্ম তারিখ সব কিছুই লিখা রয়েছে। কেবল মারা যাবার তারিখটি শূন্য রয়েছে। ঐ শূন্য স্থান পূরণের জন্য প্রতি দিন একটু একটু করে মরণের দিকে এগোচ্ছি। তাঁর এই বক্তব্যের পর পুরো ঘরে কেমন যেন এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো। আমি আমার সম্মানিত পিতৃবৎ অভিভাবকের মুখের দিকে তাকালাম। তিনি কিছুটা উদাস! মনে হল- তার প্রয়াত স্ত্রী এবং কবরের স্থানটি হয়তো বা মানষপটে ক্ষণিকের তরে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে।