অপ্রিয় সত্য
সিকিমের স্বাধীনতা গ্রাসের ভারতীয় পদ্ধতি।
বর্তমান প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ। সহায়ক শক্তিটিকে আপনারা একটু মাথা খাটালেই চিনতে
পারবেন। আর এবারের লেন্দুপ দর্জ ‘র ভূমিকায়, আমাদের দেশের
প্রভাবশালী এক পরিবার। চলুন এক নি:শ্বাসে পড়ে ফেলি আলম মাসুমের প্রবন্ধ- “সিকিমের স্বাধীনতার সূর্যাস্ত ও একজন লেন্দুপ দর্জি” ৬ এপ্রিল ১৯৭৫ সাল। সিকিমের সকালটা ছিল অন্য রকম। পাঁচ হাজার ভারতীয়
সৈন্য নিয়ে মিলিটারি কনভয় ঢুকে পড়ে রাজধানী গ্যাংটকে। রোদেলা দিনের শুরুতে এই
পাহাড়ি শহরে সে দিনও ফুটেছিল রডোডেনড্রনসহ নানা বর্ণের ফুল। রাজা পালডেন ও সিকিম
বাসীর জন্য সেটাই ছিল স্বাধীন রাজ্যের শেষ দিবস। এটা তারা বুঝতে পারেন যখন ভারতীয়
সৈন্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে রাজপ্রাসাদ ঘেরাও করে মেশিনগান দিয়ে মুহুর্মুহু
গুলিবর্ষণ শুরু করে। তারপর সিকিমের পতাকা নামিয়ে তিন রঙা ভারতীয় জাতীয় পতাকা
উত্তোলন। কংগ্রেস নেত্রী ইন্দিরা গান্ধী তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সিকিমকে ভারতের
অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতা লেন্দুপ দর্জি
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ভারতের হাতে তুলে দেয়ার
জন্য তিনি এক অভিশপ্ত জীবন বয়ে বেড়িয়েছেন। সিকিমে তার ঠাঁই হয়নি। রাজনীতি থেকে
তাকে বিদায় করা হয়। শেষজীবন কাটে প্রতিবেশী দার্জিলিংয়ের (পশ্চিমবঙ্গ) কালিমপাং
শহরে। একাকী, নিঃসঙ্গ, নিন্দিত ও
ভীত সন্ত্রস্ত এক জীবনযাপন শেষে লেন্দুপ দর্জি নীরবে মৃত্যুবরণ করেন। নাটের গুরুরা
পেছন থেকে সব কলকাঠি নাড়েন। নিজের দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকদের নাম কখনো হয় মীরজাফর,
কখনো লেন্দুপ দর্জি, কখনো বা অন্য কিছু।
দেশ ও কালের তফাৎ হয় কিন্তু ইতিহাসের অনিবার্য শাস্তি এদের পেতেই হয়। সিকিম ভারতের
দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য। আয়তন ৭,০৯৬ বর্গ কিলোমিটার।